চলতি বছরে মন্দার ঝুঁকিতে নেই ব্রিটেন। সম্প্রতি এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। খবর রয়টার্স।

আইএমএফ তার সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানায়, ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ সম্প্রসারণ হতে পারে। তবে যেকোনো প্রধান অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসের চেয়ে কম। অবশ্য গত এপ্রিলের পূর্বাভাসে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ সম্প্রসারণের পূর্বাভাস দিয়েছিল আইএমএফ। খবর রয়টার্স ও টেলিগ্রাফ।

অভ্যন্তরীণ চাহিদা শক্তিশালী থাকা, বেতন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকা, উচ্চ সরকারি ব্যয় এবং ব্যবসা আস্থা উন্নীত হওয়ায় পূর্বাভাস পরিবর্তন করেছে আইএমএফ। উচ্চ জ্বালানি মূল্যের লাগাম টেনে ধরা ও বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টিও এতে ভূমিকা রেখেছে।

যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী জেরেমি হান্ট এ প্রাক্কলনকে ‘‌বড় একটি আপডেট’ হিসেবে দেখছেন। তবে তিনি এও জানান, চলতি বছরে মূল্যস্ফীতি অর্ধেক কমানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কর বৃদ্ধির পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসছে না।

চলতি বছর শেষে ব্রিটেনের মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের আশপাশে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত মার্চেও যেখানে দেশটির মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের বেশি ছিল। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারে দেশটি। চলতি মাসের শুরুতে এ মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছিল ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (বিওই)। এপ্রিলে যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

আইএমএফের প্রাক্কলন, ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ১ শতাংশ সম্প্রসারণ হবে। তার পরবর্তী দুই বছরে ২ শতাংশ হারে সম্প্রসারণ হবে দেশটির অর্থনীতি। 

দীর্ঘমেয়াদি শ্রম অসন্তোষ মোকাবেলা, পলিসি ও নীতিগত অনিশ্চয়তা দূর করতে পারলে ব্রিটেনের প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনা বাস্তবায়ন হবে বলে মনে করে আইএমএফ।

টানা ১২ পলিসি বৈঠকে সুদহার বাড়িয়েছে যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিওই। চলতি মাসে তা ৪ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছর শেষে তা ৫ শতাংশ স্পর্শ করবে বলে মনে করছেন আর্থিক খাতসংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে বেশকিছু সংস্কার প্রস্তাব করেছে আইএমএফ। এর একটি হচ্ছে স্ট্যাম্প ডিউটির বিলোপ। যে কারণে বাসা ও চাকরি পরিবর্তন কঠিন হয়ে পড়েছে ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রীর কর বৃদ্ধির পরিকল্পনা সমর্থন করে আইএমএফ।

বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ধর্মঘট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি হয়েছে খুবই ধীর। জানুয়ারি-মার্চের মধ্যে দেশটির অর্থনীতি সম্প্রসারণ হয়েছে মাত্র দশমিক ১ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকসের (ওএনএস) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইন্টা‍রঅ্যাকটিভ ইনভেস্টরের হেড অব ইনভেস্টমেন্ট ভিক্টোরিয়া স্কলার বলেন, ‘উচ্চমূল্যস্ফীতি, প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির নেতিবাচক ধারা ও জীবনযাত্রার খরচের বাড়তি চাপ ভোক্তাদের ঝামেলায় ফেলছে। বিপরীতে চাপ পড়ছে বিভিন্ন পরিষেবা খাতে। যেগুলো যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি সচল রাখার মূল ভিত্তি।’