দেশে বাদামের মৌসুম শেষ পর্যায়ে। নতুন বাদাম উঠতে এখনো দু-তিন মাস সময় লাগতে পারে। এ কারণে দেশের বাজারে খাদ্যপণ্যটির সরবরাহ কমেছে। কিন্তু উল্লেখযোগ্য হারে চাহিদা বেড়েছে। ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা মেটাতে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বাদাম আমদানি বাড়ানো হয়েছে। বন্দর দিয়ে বাদাম আমদানির ফলে সরকারের রাজস্ব আয় যেমন বেড়েছে, তেমনি বন্দর কর্তৃপক্ষের আয়ও বেড়েছে। আয় বাড়ায় খুশি বন্দরে কর্মরত শ্রমিকরা।

হিলি স্থলবন্দরে কর্মরত শ্রমিক সাইদুল ইসলাম বলেন, বন্দর দিয়ে বেশির ভাগ সময় পাথর আমদানি হয়। কিন্তু এসব পাথর মেশিনের সাহায্যে লোড-আনলোড করার কারণে আমাদের তেমন কোনো কাজ থাকে না বললেই চলে। এর ওপর আগে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হতো, এখন সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে আয় কমে গেছে। সম্প্রতি বন্দর দিয়ে বেশ ভালো পরিমাণ বাদাম আমদানি হচ্ছে। এতে আমাদের কাজের পরিমাণ যেমন বেড়েছে, তেমনি আয়ও বেড়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, দেশীয় বাদামের মৌসুম শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে অনেক অঞ্চলে বাদাম আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। অনেকে এখনো আবাদ সম্পন্ন করতে পারেনি। ফলে নতুন বাদাম উঠতে আরো মাস দু-তিন সময় লাগবে। এ কারণে দেশের বাজারে সরবরাহ কম। অথচ পণ্যটির শক্তিশালী চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত চানাচুর কারখানায় পণ্যটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চাহিদা মেটাতে আমদানিকারকরা ভারত থেকে বাদাম আমদানি শুরু করেছেন। বন্দর দিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নিয়মিতভাবে বাদাম আমদানি হচ্ছে। তবে সম্প্রতি আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। ভারত থেকে প্রতি টন বাদাম ৬৫০-৭৫০ ডলার মূল্যে আমদানি করা হচ্ছে। প্রতি টন বাদামের শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা।

হিলি স্থল শুল্কস্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম নুরুল আলম খান বলেন, বন্দর দিয়ে আগে মাঝেমধ্যে এক-দু ট্রাক করে ভারত থেকে বাদাম আমদানি হতো। তবে গত ৩ নভেম্বর থেকে বন্দর দিয়ে বাদামের আমদানি বেড়ে যায়। বন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৭৩ টন বাদাম আমদানি হয়েছে, যা থেকে সরকারের শুল্ক বাবদ রাজস্ব আয় হয়েছে ৮২ লাখ টাকার মতো।