ভারতে সম্প্রতি চালের চাহিদা কমেছে। অন্যদিকে ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময় মূল্য রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমেছে। এসব কারণে চলতি সপ্তাহে দেশটিতে রফতানীকৃত চালের দাম কমেছে। বৃহস্পতিবার দেশটির ব্যবসায়ীরা এ তথ্য জানিয়েছেন। অন্যদিকে নিম্নমুখী চাহিদায় ভিয়েতনামেও কমেছে   চালের দাম। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

বিশ্বে শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ ভারত। দেশটিতে চলতি সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চালের টনপ্রতি মূল্য ছিল ৫৩৯-৫৪৫ ডলার, গত সপ্তাহে যা ছিল টনপ্রতি ৫৪৩-৫৫১ ডলার।

এ বিষয়ে একটি গ্লোবাল ট্রেড হাউজের নয়াদিল্লিভিত্তিক এক ডিলার বলেন, ‘‌‌এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোর ব্যবসায়ীরা বাজারে সক্রিয় নয়। দাম কমানোর প্রত্যাশায় ক্রয় আপতত স্থগিত রেখেছেন তারা।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌চলতি সপ্তাহে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির বিনিময় হার রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমেছে। এতে ভারতীয় চাল রফতানিকারকরা বেশি লাভে চাল বিক্রি করতে পারছেন।’

সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছর অভ্যন্তরীণ দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাল রফতানিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল ভারত সরকার। চলতি বছরও এসব বিধিনিষেধ কার্যকর আছে। তবে শিগগিরই ভারত সরকার এসব বিধিনিষেধ শিথিল করতে পারে। 

থাইল্যান্ডেও চালের দাম কমেছে। দেশটিতে চলতি সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের টনপ্রতি মূল্য ছিল ৫৬৫ ডলার, গত সপ্তাহে যা ছিল ৫৭০-৫৭৫ ডলার।

ব্যাংককভিত্তিক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘‌ইন্দোনেশিয়ায় থাইল্যান্ডের চালের চাহিদা কম। তাই দাম কমেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘‌দেশের রফতানিকারকরা পরবর্তী নিলাম মৌসুমে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করবেন। এছাড়া থাইল্যান্ডে চালের সরবরাহ নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই। প্রতিকূল আবহাওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে।’

বিশ্বে শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশগুলোর আরেকটি ভিয়েতনাম। দেশটিতে চলতি সপ্তাহে চালের দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এ সময় ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের টনপ্রতি মূল্য ছিল ৫৬৫ ডলার, গত সপ্তাহে যা ছিল ৫৬০ ডলার।

হো চি মিন সিটিভিত্তিক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ফিলিপাইনের ক্রেতাদের কাছে ভিয়েতনামের চালের বাড়তি চাহিদা রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ায়ও চালের রফতানি বেড়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌দেশে চাল সরবরাহ স্থিতিশীল। কিন্তু মেকং ডেল্টায় অব্যাহত বৃষ্টির কারণে চালের মান ভালো নয়।’

এদিকে বাংলাদেশেও চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী। দেশে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও ভোগ্যপণ্যটির দাম বাড়ছে।