কফি উৎপাদনে এশিয়ায় শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া। এ দেশগুলোয় গত বৃহস্পতিবার পণ্যটির দাম কমেছে। ভিয়েতনামে শস্য মৌসুমের শেষে সরবরাহ ঘাটতিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম কমে গিয়েছিল। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ায় ফসল কাটার মৌসুমে প্রচুর সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এসব কারণে দুই দেশে কফির দাম কমেছে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ। 

ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যমতে, ভিয়েতনামের প্রধান কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডসে গত বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি কফির দাম ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ডং থেকে ১ লাখ ২৩ হাজার ৫০০ ডং (৪ ডলার ৮৮ সেন্ট থেকে ৪ হাজার ৯০ সেন্ট)। এক সপ্তাহ আগেও এর দাম ছিল ১ লাখ ২৪ হাজার থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার ডং। 

অন্যদিকে লন্ডন মার্কেটে নভেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে রোবাস্তা কফির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ৫৩ ডলার কমে ৪ হাজার ৬৩ ডলারে নেমে এসেছে। 

ভিয়েতনামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘কফির ‌বাজার পরিস্থিতি বর্তমানে তুলনামূলক স্থিতিশীল। গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী কফির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তবে ভিয়েতনাম থেকে কম রফতানির তথ্যে দাম কিছুটা স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে।’ 

দেশটির সরকারি তথ্যানুযায়ী, ভিয়েতনাম চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে বিশ্বব্যাপী ৯ লাখ ৬৪ হাজার টন কফি রফতানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ কম। তবে একই সময়ে দেশটির রফতানি আয় ৩১ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় দেশটির কফি রফতানি আয় পৌঁছেছে ৩ হাজার ৫০ কোটি ডলারে। 

এদিকে ইন্দোনেশিয়াতেও বৃহস্পতিবার কফির দাম কমেছে। দেশটির এক ব্যবসায়ী জানান, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বেশি থাকায় কফির দাম কমেছে। গত বৃহস্পতিবার সুমাত্রা থেকে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে রোবাস্তা কফি বিনের প্রিমিয়াম বা উপরোজিত মূল্য ছিল টনপ্রতি ৪৭০ ডলার। গত সপ্তাহে সেপ্টেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে টনপ্রতি কফির প্রিমিয়াম ছিল ৬০০ ডলার। 

ইন্দোনেশিয়ার আরেক ব্যবসায়ী জানান, চলমান ফসল কাটার মৌসুমের কারণে কফির দাম নিম্নমুখী। বৃহস্পতিবার নভেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে টনপ্রতি রোবাস্তা কফির প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছিল টনপ্রতি ৪০৩ ডলার। গত সপ্তাহে সেপ্টেম্বরের সরবরাহ চুক্তিতে এটির প্রিমিয়াম ছিল টনপ্রতি ৫২০ ডলার। 

ইন্দোনেশিয়ায় চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে বিশ্বব্যাপী কফি রফতানিও কমেছে। দেশটির ট্রেড অফিস জানায়, ইন্দোনেশিয়া জুনে সুমাত্রা দ্বীপ থেকে ৭ হাজার ২৫২ দশমিক ১ টন রোবাস্তা কফি বিন রফতানি করে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ কম।