জাপানের কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম বাড়তে শুরু করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক সমীক্ষায় দেখানো হয় চলতি মাসে সাত মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটির কারখানা কার্যক্রম বেড়েছে। এ সময় রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে পরিষেবা খাতে। কভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা শিল্প-কারখানার কার্যক্রম বাড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। খবর রয়টার্স।
টোকিওভিত্তিক অউ জিবুন ব্যাংকের প্রকাশিত ‘জাপান ম্যানুফ্যাকচারিং পার্সেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স’ (পিএমআই) অনুযায়ী, মে মাসে জাপানের পিএমআই বেড়ে ৫০ দশমিক ৮ পয়েন্টে। যেখানে এপ্রিলের পিএমআই ছিল ৪৯ দশমিক ৫। দেশটিতে ২০২২ সালের অক্টোবরের পর প্রথমবারের মতো পিএমআই ৫০ পয়েন্টের সীমা অতিক্রম করল। গত জুনের পর প্রথমবারের মতো উৎপাদন ও নতুন ক্রয়াদেশ বেড়েছে দেশটির কারাখানাগুলোর।
সমীক্ষায় অংশ নেয়া কারখানা মালিকরা বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারীর ফলে সাপ্লাই চেইনে বড় ধরনের আঘাত লেগেছে। বর্তমানে সেই প্রতিবন্ধকতা থেকে বের হওয়ার কিছুটা ইঙ্গিত মিলছে। সমীক্ষাটি পর্যবেক্ষণকারী এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের অর্থনীতিবিদ উসামা ভাট্টি বলেন, ‘জাপানের বেসরকারি খাতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত। কেননা পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাড়ছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সাত মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো উৎপাদন ও পরিচালন পরিস্থিতির উন্নতি দেখিয়েছে।’
সমীক্ষার তথ্য বলছে, পরিষেবা খাতের কার্যক্রম মে মাসে রেকর্ড সর্বোচ্চ শক্তিশালী গতিতে প্রসারিত হয়েছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন উভয়ই পুনরায় চালু হওয়ার মাধ্যমে খাতটি পুনরুদ্ধার হয়েছে। কভিড-১৯ মহামারী স্তর পার করে এখন অর্থনৈতিক নতুন যাত্রা শুরুর কারণে সামগ্রিক অর্থনীতি লাভবান হচ্ছে।
অউ জিবুন ব্যাংকের ফ্লাশ সার্ভিসেস তথ্য বলছে, দেশটির পিএমআই এপ্রিলের ৫৫ দশমিক ৪ পয়েন্ট থেকে মে মাসে রেকর্ড সংশোধিত ৫৬ দশমিক ৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া মোট নতুন ব্যবসা, রফতানি ও অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও পরিষেবা খাত রেকর্ড সম্প্রসারণ পেয়েছে।
জাপানের সরকারি তথ্যানুযায়ী, এপ্রিলে দেশটিতে পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে পৌঁছেছে, যা মহামারী-পরবর্তী সময়ে সর্বোচ্চ। চীনে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিলতার ফলে উপকৃত হয়েছে দেশটি। অউ জিবুন ব্যাংক ফ্ল্যাশ জাপানের কম্পোজিট পিএমআই মে মাসে দেখিয়েছে ৫৪ দশমিক ৯ পয়েন্ট, যা ২০১৩ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। উল্লেখ্য, কম্পোজিট পিএমআই বলতে উৎপাদন ও পরিষেবা উভয় খাতের সমন্বিত উৎপাদন কার্যক্রমকে বোঝায়।










