জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আরোপিত নতুন শুল্কের বিরুদ্ধে গতকাল আদালতে মামলা করেছে দেশটির ২৫টি অঙ্গরাজ্য। বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৬০ বাণিজ্য অংশীদারের ওপর আরোপিত এ শুল্ক কার্যকর হওয়া ঠেকাতেই মামলাটি করা হয়েছে। খবর বিবিসি।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ১০ ও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশী পণ্যে শুল্ক ধরা হয়েছিল ১০ শতাংশ।
এসব শুল্ক গত জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে এবং ১৯৭৪ সালের মার্কিন ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারার আওতায় আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর জানিয়েছে, নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ওপর প্রযোজ্য।
বিবিসির হাতে আসা মামলার নথিতে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যগুলোর জোট অভিযোগ করেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ‘খামখেয়ালি, অযৌক্তিক এবং আইনের পরিপন্থী’।
তাদের দাবি, জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে প্রশাসন অবৈধ শুল্কনীতি চালিয়ে যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র কুশ দেশাই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, মার্কিন ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলা বাণিজ্যিক চর্চার বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনসম্মত কর্তৃত্ব ব্যবহার করছে। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধে ব্যর্থ দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যুক্তিসঙ্গত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল বলেন, ট্রাম্পের অবৈধ শুল্ক মূলত মার্কিন পরিশ্রমী পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপাচ্ছে। আর ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যান রেফিল্ড বলেন, এসব শুল্কের মূল্য বিদেশী সরকার নয়, মার্কিন নাগরিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেই দিতে হচ্ছে।
এদিকে ব্রাজিল ও জাপান এ শুল্ককে ‘অযৌক্তিক’ বলে সমালোচনা করেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের অজুহাত’ বলে মন্তব্য করেন। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের বিরোধ সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের ব্যবসা বিষয়ক প্রভাষক এলে কাপরি বলেন, এ মামলা ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির জন্য একটি বড় আইনি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যতিক্রম ও নীতি শিথিলের মাধ্যমে এসব শুল্কের কার্যকারিতা কমে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।










