তীব্র দাবদাহকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিন কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থার সংস্কারের নির্দেশ দেন। আজ মঙ্গলবার দেশটির মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। খবর রয়টার্স।
প্রেসিডেন্ট লি বলেন, অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে চরম তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন তিনি।
কোরিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা (কেডিসিএ) জানিয়েছে, তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত দেশটিতে এ পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১৩ জনের বয়স ৮০ বছর বা তার বেশি। গত ১৫ মে থেকে দেশজুড়ে ২ হাজার ২৫ জন তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান শহরে রোববার সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ১২২ বছরের সর্বোচ্চ।
এদিকে রাজধানী সিউল ও আশপাশের গিয়ংগি অঞ্চলে সোমবার প্রথমবারের মতো তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার তা পুরো সিউলে কার্যকর হয়। এ সতর্কতার আওতায় কৃষিকাজ, নির্মাণকাজ, খেলাধুলাসহ সব ধরনের কার্যক্রম সীমিত বা স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম সিউলের ইয়ংদেউংপো এলাকার জোকবাং গ্রামের বাসিন্দা চো সাং-ইয়ন বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে সেখানে বসবাস করলেও এত তীব্র গরম আগে কখনও অনুভব করেননি। তীব্র গরমে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের একটি অংশকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় দমকল বিভাগ জানিয়েছে, তাপমাত্রা কমাতে সড়কে পানি ছিটানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।










