ডিআর কঙ্গোয় সাম্প্রতিক ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৫৪ জনে পৌঁছেছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে মৃত্যুর সংখ্যা ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাসটি এখন দাবানলের মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। খবর আল জাজিরা।
গতকাল প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে নিশ্চিত ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা (মৃতসহ) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৫ জনে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে এ প্রাদুর্ভাব এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত সবচেয়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করা সংক্রমণ।
ডিআর কঙ্গোয় ছড়িয়ে পড়া বান্ডিবুগিও ভ্যারিয়েন্টের ইবোলা মানুষের মধ্যে সংক্রমণকারী চারটি পরিচিত ধরনের মধ্যে সবচেয়ে বিরল। এর বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবদুলসালামি নাসিদি বলেন, কার্যকর টিকা না থাকায় ভাইরাসটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। \
আরো জানান, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় এ মহামারী ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে এবং সীমিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে বিজ্ঞানীরা দ্রুত এর কার্যকর টিকা উদ্ভাবনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ জানিয়েছে, শুক্রবার একজন স্বেচ্ছাসেবীকে পরীক্ষামূলক বান্ডিবুগিও ইবোলা টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে। গবেষণার প্রধান ক্যাটরিনা পোলক একে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
এর আগে, ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘটে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকায়। তখন গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে অন্তত ২৮ হাজার মানুষ আক্রান্ত হন এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
সেই প্রাদুর্ভাবে প্রথম এক হাজার মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছাতে প্রায় আট মাস লেগেছিল। অথচ ডিআর কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবে ১০ সপ্তাহেরও কম সময়ে সেই সংখ্যা অতিক্রম করেছে।
যদি এখনি থামানো না যায়, বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব হতে পারে বলে জানিয়েছেন আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক জ্যাঁ কাসেয়া।
ডিআর কঙ্গোর গোমা শহর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক আলাঁ উয়াইকানি জানান, সরকারের সমন্বয়হীনতা ও ধীরগতির কারণে চিকিৎসাকর্মীরা চরম চাপের মধ্যে কাজ করছেন। গতকালও এক চিকিৎসক ও এক স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মে মাসে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে প্রায় ৩৫ জন মারা গেছেন।
ইতুরি প্রদেশের একাধিক চিকিৎসাকেন্দ্রে নিরাপত্তাহীন কর্মপরিবেশ ও বকেয়া বেতনের প্রতিবাদে স্বাস্থ্যকর্মীরা ধর্মঘটও শুরু করেছেন। কিছুদিন আগে বুনিয়ার এলিকিয়া ইবোলা চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসক, নার্স ও নিরাপত্তাকর্মীরা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন।
অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেছেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে।










