ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। আজ শনিবার সকালে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ব্রিগেড ময়দানে এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শপথ নেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করল বিজেপি। শপথ নিয়েছেন নতুন সরকারের মন্ত্রীরা।
স্থানীয় সময় বেলা ১১টার পর শপথগ্রহণ শুরু হয়। হুডখোলা গাড়িতে শুভেন্দুকে সঙ্গে নিয়ে ব্রিগেডে প্রবেশ করেন মোদি। শপথ অনুষ্ঠানের আরো ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
এছাড়াও মঞ্চে ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা প্রফুল পটেল, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি, চিরাগ পাসোয়ান, স্মৃতি ইরানি, শিবরাজ সিংহ চৌহান, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবীশ, অগ্নিমিত্রা পাল, মিঠুন চক্রবর্তীসহ কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা।
গতকাল কলকাতায় বিজেপি নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলিপ ঘোষ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করেন, যাতে সায় দেন বিধায়করা। পরে অমিত শাহ বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে শুভেন্দুর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। এক সময় তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। বিজেপিতে যোগ দেয়ার পর দ্রুতই পশ্চিমবঙ্গে দলটির অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক প্রচার পরিচালনা করেন।
২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন শুভেন্দু। সাম্প্রতিক নির্বাচনে তিনি মমতার ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি ভবানীপুর আসন থেকেও জয় পেয়েছেন। সেখানে তিনি ১৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।










