এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করল বিজেপি। শপথ নিয়েছেন নতুন সরকারের মন্ত্রীরাও।

স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। হুডখোলা গাড়িতে শুভেন্দুকে সঙ্গে নিয়ে ব্রিগেডে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শপথ অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। রবীন্দ্র জয়ন্তীর এ দিনে শপথ মঞ্চে উঠে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। বাজানো হয় জাতীয় সংগীত।

স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার কিছু পর রাজ্যপাল আর এন রবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে শপথ পড়ান। মুখ্যমন্ত্রীর পর একে একে শপথ নেন মন্ত্রীরা।

তারা হলেন বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক ও ক্ষুদিরাম টুডু।

শপথ নেয়ার পর কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে সরাসরি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে যান শুভেন্দু অধিকারী। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীতে সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কবিগুরুকে প্রণাম জানিয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নিল। বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতি কবিগুরুর চেতনা ও ভাবনায় পরিচালিত হবে। আজ তার শুভ সূচনা হলো। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলার অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। শিক্ষা হারিয়ে গেছে, সংস্কৃতি নষ্ট হয়েছে। আমরা বাংলাকে নবনির্মাণ করব। যারা সমালোচনা করতে চায় করুক, আমরা আমাদের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাব।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় হয়। নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৮০টি আসন। বিজেপির জয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হলেন তারই এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বর্তমানে রাজ্য বিজেপির পরিষদীয় দলের নেতা শুভেন্দু।