যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ‘গঠনমূলক’ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের দ্বিতীয় দিনেও বৈঠক করেন দুই নেতা।

শুক্রবার সকালে ট্রাম্পকে জংনানহাই লিডারশিপ কম্পাউন্ড ঘুরে দেখান শি। চীনের শীর্ষ নেতাদের বাসভবন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এ প্রাঙ্গণ সাধারণত বিদেশী অতিথিদের জন্য উন্মুক্ত থাকে না।

সফরের সময় দুই নেতাকে হাস্যোজ্জ্বল ও স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশে কথা বলতে দেখা যায়। হাঁটার সময় শি জানান, জংনানহাই একসময় সম্রাটের উদ্যানের অংশ ছিল এবং সেখানে প্রায় ৪৯০ বছর পুরোনো গাছও রয়েছে।

এ সময় বাগানের গোলাপ দেখে ট্রাম্প বলেন, এগুলো কারো দেখা সবচেয়ে সুন্দর গোলাপ। জবাবে শি জানান, ওই চীনা গোলাপের বীজ তিনি ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে পাঠাবেন। ট্রাম্প তা ‘দারুণ’ বলে মন্তব্য করেন। পরে চায়ের ঘরের দিকে যাওয়ার সময়ও ট্রাম্প বলেন, শি তাকে হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনের জন্য গোলাপ দেবেন।

জংনানহাই প্রাঙ্গণে হাঁটার সময় ট্রাম্প শিকে প্রশ্ন করেন, বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানদের তিনি নিয়মিত সেখানে নিয়ে আসেন কিনা। জবাবে শি বলেন, এ ধরনের আয়োজন খুবই বিরল। উদাহরণ হিসেবে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নাম উল্লেখ করেন, যিনি পূর্ববর্তী সফরগুলোয় একাধিকবার জংনানহাই পরিদর্শন করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের দিনই মস্কো ঘোষণা দেয়, পুতিন শিগগিরই আবার চীন সফর করবেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প ও শি। ট্রাম্প জানান, তারা বাণিজ্য, ইরানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আলোচনা করেছেন। তার ভাষায়, ‘অনেক জটিল সমস্যা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি, যেগুলো অন্য কেউ সমাধান করতে পারত না।

ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তাদের পারমাণবিক অস্ত্র থাকুক, এটা চাই না। একইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ খোলা রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

বেইজিং সফরকে নিজের জন্য ‘সম্মানের’ বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর আবারো দুই নেতার বৈঠক হবে, যখন শি যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন। বিষয়টিকে ট্রাম্প ‘‌পাল্টাপাল্টি শুল্কের মতো পাল্টাপাল্টি সফর’ বলে উল্লেখ করেন।

এছাড়া তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে শিও ঠিক ততটাই মুগ্ধ হবেন, যতটা ট্রাম্প চীন সফরে এসে হয়েছেন।

সফর শেষে আজই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে চীন ত্যাগ করেন ট্রাম্প।

সূত্র: বিবিসি