এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কৃষকরা উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এরই মধ্যে চাষের জমি কমিয়ে দিচ্ছেন। এমনকি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সার ব্যবহারও কমিয়ে দিচ্ছেন তারা, যা আগামী মৌসুমে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চাল বিশ্ব খাদ্যনিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। সামান্য সরবরাহ ব্যাঘাতও বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকার মতো অঞ্চলে যেখানে মানুষের বড় অংশ চালনির্ভর খাদ্য ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) পূর্বাভাস দিয়েছিল যে ২০২৫-২৬ মৌসুমে চাল উৎপাদন ২ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছবে। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা সে আশাবাদকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি ও সার পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এর ওপর চাপ পড়লে সরাসরি কৃষি উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো শীর্ষ রফতানিকারক দেশগুলোর পাশাপাশি ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর কৃষকদের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক চাষের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন।

এ পরিস্থিতিতে ‘এল নিনো’ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চাল উৎপাদন আরো কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাধারণত বৃষ্টিপাত কমে যায় এবং তাপমাত্রা বাড়ে, যা ধান উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত প্রতিকূল। ধান পানিনির্ভর ফসল হওয়ায় সেচের ওপর এর নির্ভরতা অনেক বেশি। ফলে শুষ্ক আবহাওয়া উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র কৃষকরা, যাদের সেচ সুবিধা সীমিত, তারা এ পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি শিকার হন।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেছেন, কৃষকরা এরই মধ্যে উচ্চ ব্যয়ের কারণে চাষে উপকরণ কম ব্যবহার করছেন। ফলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধ এবং পরের বছরের শুরুতে বৈশ্বিক সরবরাহ আরো সংকুচিত হতে পারে। তার মতে, হরমুজ প্রণালি এখনই খুলে দিলেও চালের দাম বাড়বে। তবে দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রণালি না খুললে পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

চালের বাজারে অতীতে এমন পরিস্থিতির নজির রয়েছে। ২০০৮ সালে প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোর রফতানি সীমিত করার সিদ্ধান্তে চালের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যায়। এতে অনেক দেশে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়েও ২০২২-২৩ সালে সরবরাহ সংকট এবং ভারতের রফতানি নিয়ন্ত্রণ বাজারে চাপ বাড়িয়েছিল। বর্তমানে সরবরাহ ব্যবস্থায়ও সমস্যা দেখা দিয়েছে।