মাত্র পাঁচদিনের ব্যবধানে মৃত্যুর হার বেড়েছে ৪০ শতাংশেরও বেশি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাসটি এখন দাবানলের মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। খবর আল জাজিরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে এ প্রাদুর্ভাব এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত সবচেয়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করা সংক্রমণ। সর্বশেষ গত শনিবার প্রকাশিত সরকারি তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে নিশ্চিত ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা (মৃতসহ) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৫-এ।
ডিআর কঙ্গোয় ছড়িয়ে পড়া বান্ডিবুগিও ভ্যারিয়েন্টের ইবোলা মানুষের মধ্যে সংক্রমণকারী চারটি পরিচিত ধরনের মধ্যে সবচেয়ে বিরল। এর বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবদুলসালামি নাসিদি বলেন, ‘কার্যকর টিকা না থাকায় ভাইরাসটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। সেই সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় এ মহামারী ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে এবং সীমিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।’
এদিকে বিজ্ঞানীরা দ্রুত এর কার্যকর টিকা উদ্ভাবনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ জানিয়েছে, শুক্রবার একজন স্বেচ্ছাসেবীকে পরীক্ষামূলক বান্ডিবুগিও ইবোলা টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে। গবেষণার প্রধান ক্যাটরিনা পোলক একে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
এর আগে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘটে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকায়। তখন গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে অন্তত ২৮ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয় এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। সেই প্রাদুর্ভাবে প্রথম এক হাজার মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছতে প্রায় আট মাস লেগেছিল। অথচ ডিআর কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবে ১০ সপ্তাহেরও কম সময়ে সেই সংখ্যা অতিক্রম করেছে। যদি এখনই তা থামানো না যায়, বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব হতে পারে বলে জানিয়েছেন আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক জ্যাঁ কাসেয়া।










