মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় গতকাল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। গত মে মাসের পর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এ পর্যায়ে উঠল।
গতকাল রাতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৯ ডলারে অবস্থান করছিল। একই সময়ে মার্কিন মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলার ৩৪ সেন্টে দাঁড়ায়।
হুথিরা জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের এনসেলিয়া ও লায়লা নামের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা যায়, বুধবার রাতে সৌদি আরবের জিজান বন্দরের কাছে এনসেলিয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ার পর বিপদ সংকেত পাঠায়। সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, হামলায় জাহাজটির সামনের অংশে আগুন ধরে যায়। তবে লায়লায় হামলার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
নতুন এ হামলায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে দ্বিমুখী সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল পরিবহন আগে থেকেই ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের দিকে সরিয়ে নিচ্ছে। এখন হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও নৌ-অবরোধ কার্যকর করলে সেই বিকল্প পথটিও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
লোহিত সাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা বাব আল-মান্দেব প্রণালি হরমুজের পর বিশ্বের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। এ পথ বন্ধ বা অনিরাপদ হয়ে পড়লে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের তেল রফতানিকারক দেশগুলোর চালান মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। এরই মধ্যে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ পথ পরিবর্তন করেছে। কিছু জাহাজকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথে এশিয়ায় যেতে হতে পারে।
জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ৪০ লাখ ব্যারেল তেলবাহী দুটি চীনা সুপারট্যাংকার বাব আল-মান্দেব অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে পরিবহন ব্যয়, বীমা প্রিমিয়াম ও সরবরাহ সময় একসঙ্গে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হুথিরা আবার এ ধরনের হামলা চালালে এর জন্য ইরানকে দায়ী করা হবে এবং ইরান ও হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি হুথিদের ইরানের প্রতিনিধি শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলাও জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে প্রতিটি জাহাজে ইরানি হামলার জবাবে ইরানের একটি করে সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন। পাল্টা হুঁশিয়ারিতে ইরান বলেছে, আঞ্চলিক তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হবে এবং অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও রফতানি করতে দেয়া হবে না।
জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আরো বাড়তে পারে। পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।










