গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একসময় ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারের বেশি ছুঁয়ে যায়, যা ২০২২ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ। তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দাম ১১৪ ডলারে নেমে আসে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাই এ অস্থিরতার মূল কারণ। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে আবারো সামরিক অভিযান চালায়, তবে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে আরো বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
এর আগে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে একটি ব্রিফিং পেতে যাচ্ছেন। এ খবর প্রকাশের পরই বাজারে দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। তবে পরে কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই দাম কমে যায়।
জ্বালানিবাজার বিশ্লেষক তামাস ভার্গা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার অত্যন্ত অস্থির হয়ে উঠেছে এবং দামের এ ওঠানামা কোনো একক ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। তার মতে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে এবং এ ধরনের হঠাৎ পরিবর্তন এখন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৪ ডলারে নেমে এসেছে। দিনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এটি উল্লেখযোগ্য পতন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বড় অর্ডারে বিক্রির চাপও দামের পতনে ভূমিকা রেখেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করছে। কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে আছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এ পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজারে, বিশেষ করে পেট্রল ও ডিজেলের ওপর। এছাড়া সার উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় কৃষি খাতেও চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে আগামী মাসগুলোতে খাদ্যদ্রব্যের দাম আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।










