গতকাল বিকালে কলকাতার কালীঘাটের বাড়ি থেকে সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, ‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে? এমনি জিতলে কোনো অভিযোগ থাকত না। হার-জিত থাকেই। কিন্তু তা হয়নি। আমরা হারিনি। ওরা লুট করেছে।’

এছাড়া বিজেপি-বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে আরো শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মমতা। তিনি জানান, বিজেপি-বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের নেতারা তাকে ফোন করে সমর্থন জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘জোট আগামী দিনে আরো শক্তিশালী হবে। অখিলেশ আজ আসতে চেয়েছিল। আমি কাল আসতে বলেছি। একে একে সবাই আসবেন। জোট শক্তিশালী করব।’ সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, উদ্ধব ঠাকরে ও হেমন্ত সোরেন ফোন করে তার পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

মমতা বলেন, ‘এতদিন আমি চেয়ারে ছিলাম। অনেক কিছু সহ্য করেছি। কিন্তু এখন আমি মুক্তবিহঙ্গ। সাধারণ মানুষ। আর সহ্য করব না। সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমি রাস্তার লোক। রাস্তায় ছিলাম, রাস্তায় থাকব।’

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের এ লড়াই ছিল না। নির্বাচন কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। কমিশনই ভিলেন হয়েছে। মানুষের অধিকার লুট করেছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেইড করে। সব অফিসারকে বদলে দেয়। বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট, বিচার ব্যবস্থা নেই, কেন্দ্রীয় সরকার যখন এক দলের শাসন চায়, তখন গণতন্ত্র কোথায় যাবে?’

গণনার দিন সহিংসতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘গণনা শুরুর পর সংবাদমাধ্যমে বিজেপি ২০০-এর বেশি আসন পেয়ে গিয়েছে দেখানোর পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় হামলা শুরু হয়। বিজেপির লোকজন গণনা কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে মারধর শুরু করে। ১৩ হাজার ভোটে আমি লিড করছিলাম। ৩২ হাজারের বেশি পাওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ওরা গণনা কেন্দ্রে ঢুকেছে। সব ভেঙে দিয়েছে। এটা শুনেই আমি গেলাম। জগুবাজারের কাছে আমার গাড়ি আটকাল। বলল যেতে দেবে না। লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।’