সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেকিং প্রবণতার কারণে দুর্গম পাহাড়ে পথ হারানো ও আটকে পড়া পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশজুড়ে হাইকিং নীতিমালা কঠোর করছে মালয়েশিয়া। উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ১৮৯টি ট্রেকিং রুটে গাইড বাধ্যতামূলক করা, স্বাস্থ্য যাচাই জোরদার এবং কিছু ‘কমপ্রেসড হাইক’ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।
মালয়েশিয়ার অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে পথ হারানো হাইকারদের ৫২টি ঘটনার রেকর্ড হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।
‘কমপ্রেসড হাইক’ বলতে সাধারণত কয়েক দিনের কঠিন ট্রেক একদিনে শেষ করার প্রবণতাকে বোঝায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ার লক্ষ্যে অনেকেই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই এ ধরনের ট্রেক করছেন।
বনাঞ্চলভিত্তিক পর্বত গাইডদের সংগঠনের সদস্য নোরিমাহ আবদ করিম বলেন, অনেক হাইকার পেশাদার ট্রেইল রানারের মতো দেখাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও সঙ্গে রাখেন না। আকর্ষণীয় ছবি ও ভিডিও তৈরির জন্য তারা নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করছেন।
প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশগত স্থায়িত্ববিষয়ক উপমন্ত্রী সৈয়দ ইব্রাহিম সৈয়দ দেশটির পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, উচ্চঝুঁকিপূর্ণ পার্বত্য এলাকায় কমপ্রেসড হাইক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিছু অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের ট্রেকের আবেদন অনুমোদন দেয়া হবে না। আবার কোথাও কোথাও নির্দিষ্ট রুটে ন্যূনতম কয়েক দিনের আরোহন সময় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এ ছাড়া ট্রেকিংয়ের আগে স্বাস্থ্য ঘোষণা, চিকিৎসা–ইতিহাস যাচাই এবং বীমা কভারেজ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, দুর্ঘটনা ও পথ হারানোর ঘটনা কমিয়ে ব্যয়বহুল অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান (সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ) পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করা।
-দ্য গার্ডিয়ান










