বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহী ও সাবেক ব্রিটিশ সেনাসদস্য নির্মল পুরজা পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালার ব্রড পিকে তুষারধসে নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) হওয়া সেই দুর্ঘটনায় তার নেতৃত্বাধীন অভিযানের ১০ সদস্যের কেউই বেঁচে নেই বলে নিশ্চিত করেছে তার প্রতিষ্ঠান এলিট এক্সপেডিশনস। খবর বিবিসি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গভীর শোক ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা নিশ্চিত করছি যে নির্মল পুরজা ব্রড পিকে তুষারধসে প্রাণ হারিয়েছেন।

একইসঙ্গে অভিযানের বাকি নয় সদস্যেরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়।

এর আগে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, অভিযানে অংশ নেওয়া তিন আরোহীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হলেন—যুক্তরাষ্ট্রের ম্যালরি গেইস, ওমানের নাধিরা আহমেদ আবদুল্লাহ আল হার্থি এবং নেপালের পুর বাহাদুর গুরুং।

এ পর্বতারোহী মৃত্যুতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, বিশ্বরেকর্ডধারী নির্মল পুরজাসহ ছয় নেপালি ও চার বিদেশি পর্বতারোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।

৮ হাজার ৪৭ মিটার (২৬ হাজার ৪০০ ফুট) উচ্চতার ব্রড পিকে তুষারধসের পর থেকে উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ পর্বতারোহীদের খুঁজে আসছিল।

নেপালে জন্ম নেয়া ৪৩ বছর বয়সী নির্মল পুরজা, যিনি নিমস নামেও পরিচিত, ২০১৯ সালে মাত্র ১৮৯ দিনে বিশ্বের ৮ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি পর্বতশৃঙ্গ জয় করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।

তার এ অভিযাত্রা নিয়ে ২০২১ সালে নেটফ্লিক্সে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়।

১৬ বছর ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করা পুরজা বিশেষ বাহিনীতেও ১০ বছর কর্মরত ছিলেন। চরম উচ্চতায় পর্বতারোহণে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে প্রয়াত রানি এলিজাবেথ তার হাতে এমবিই সম্মাননা তুলে দেন।

তিনি দাবি করেছিলেন, ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় এভারেস্ট জয় করা প্রথম গুর্খা সেনা তিনিই।

মৃত্যুর কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া শেষ পোস্টে পুরজা লিখেছিলেন, তার মূল পরিকল্পনা ছিল শুধু গ্যাশারব্রুম-২ (জি২) আরোহণের। তবে পরে সিদ্ধান্ত বদলে ব্রড পিকেও ওঠার লক্ষ্য নেন।

পোস্টের শেষাংশে তিনি লিখেছিলেন, ব্রড পিক, আমি তোমার কাছে নিরাপদে ওপরে ওঠা এবং নিচে ফিরে আসা ছাড়া আর কিছুই চাই না। কোনো পর্বতকেই আমি কখনো হালকাভাবে নিই না।

বিশ্বের অন্যতম কঠিন পর্বতশৃঙ্গ হিসেবে পরিচিত ব্রড পিক প্রথম জয় করা হয় ১৯৫৭ সালে। এরপর বহু পর্বতারোহী শৃঙ্গটি জয় করলেও দুর্গম পথ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এখানে প্রাণ হারিয়েছেন কয়েক ডজন আরোহী। ২০১৩ সালে এক বছরেই অন্তত ছয় পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়।