ইরান যুদ্ধের কারণে আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোতে চরম খাদ্য সংকট এবং পণ্যের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইয়ারা ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী সভেইন তোরে হোলসেথার এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, সারের বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার কারণে দরিদ্র দেশগুলো প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে না পারায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
লন্ডনে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে হোলসেথার বলেন, “সারের বাজারে এখন এক ধরণের ‘নিলাম’ শুরু হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এর ফলে ধনী দেশগুলো চড়া দামে সার কিনে মজুদ করলেও আফ্রিকার মতো দরিদ্র দেশগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সারের এই সংকটের কারণে ইউরোপে হয়তো দুর্ভিক্ষ হবে না, কিন্তু দরিদ্র দেশগুলো তাদের প্রাপ্য খাদ্য ও উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হবে।’
আফ্রিকা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় খাদ্য আমদানিকারক অঞ্চল। যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা এরই মধ্যে ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। বাজার বিশ্লেষক সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, ইথিওপিয়া ও কেনিয়ার মতো সাবসাহারান আফ্রিকার দেশগুলো নাইট্রোজেন সারের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে এই দেশগুলো এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
সারের প্রধান কাঁচামাল ইউরিয়ার প্রায় ৩৫ শতাংশ সরবরাহ আসে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে ইউরিয়ার দাম প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ বেড়ে গেছে। এই চড়া দাম আফ্রিকার সাধারণ কৃষকদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, নাইট্রোজেন সারের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়া উৎপাদনও থমকে গেছে। যুদ্ধের কারণে কাতারসহ বেশ কিছু দেশ তাদের উৎপাদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। ইয়ারা ইন্টারন্যাশনালের প্রধান জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া এই কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে অনেক সময় লাগবে, যা বাজারে সারের সংকটকে আরো দীর্ঘস্থায়ী করবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রায় ৪৩ হাজার ২০০ ডলার (৫০ হাজার ইউরো) পর্যন্ত অনুদান ও ভর্তুকি ঘোষণা করলেও আফ্রিকার কৃষকদের জন্য এমন কোনো ব্যবস্থা নেই। মাটির গুণগত মান ভালো থাকায় ইউরোপের কৃষকরা সারের ব্যবহার কিছুটা কমালেও ফলন খুব একটা কমবে না। কিন্তু আফ্রিকার ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। সেখানে পর্যাপ্ত সারের অভাবে ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশগুলোকে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিতে পারে।










