ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইন্টারেকশনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। একটি বেসরকারি মিডিয়া সংস্থা এটির আয়োজন করছে। মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা (সোমবার) আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছেন, শেখ হাসিনাকে যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড চালাতে দেয়া না হয়, যা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় একটি সম্মেলনের আগে এ বার্তা দেয়া হলো। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী?

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, যে অনুষ্ঠানের কথা বলা হচ্ছে, সেটি একটি বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো রকম সংশ্লিষ্টতা নেই। সেখানে প্রকাশ করা কোনো মতামত বা বক্তব্য ভারত সরকার সমর্থন করে না, তার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

আরেকজন সাংবাদিক জানতে চান, ভারতে ব্রিকস সামিটে যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, সেটি কি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নাকি বিমসটেকের সভাপতি হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে?

জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে জিতে তারেক রহমান বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তখনই একবার তাকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত।

তিনি বলেন, এবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নিতে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পৃথকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে আঞ্চলিক জোটগুলোর চেয়ারম্যানদের আমন্ত্রণ জানানোর যে প্রচলিত রেওয়াজ রয়েছে, সে অনুযায়ীই বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য আঞ্চলিক জোটের প্রধানদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এদিন সকালে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো গণমাধ্যম যেন শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করে, সে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আদালতের আদেশ অমান্য করলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যখন বক্তব্য দিচ্ছেন, এর আগের বারও আমরা একটা ব্রিফ দিয়েছি, পত্রিকাগুলোকে একটা নির্দেশনা দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, আবার তিনি বক্তব্য দেবেন- এরকম নিউজ যদি কেউ দিয়ে থাকে, কালকে করবে- এটা যদি কেউ আগাম জানায়, পাবলিশ করে, এটা অবশ্যই আদালতের রায় ভায়োলেট হবে। আমরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।

এর আগেও যারা শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সরকার তাদের সতর্ক করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আবার স্মরণ করিয়ে দেব, এ কাজ কেউ যেন না করেন। কারণ এটা আদালতের নির্দেশ আছে। সরকার কিন্তু আদালত নয়।

তিনি আরো বলেন, কেউ যদি সংক্ষুব্ধ হয় যে, শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেয়া ভুল হচ্ছে, প্রচারিত হতে দেয়া উচিৎ কেউ যদি মনে করেন- তিনি কিন্তু আদালতে যেতে পারেন। সরকারের কাজ হচ্ছে আদালতের সিদ্ধান্ত এক্সিকিউট হচ্ছে কিনা সেটা দেখা। সে ব্যাপারে সরকার ব্যবস্থা নেবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা ওনাকে (শেখ হাসিনা) চাইছি। বলছি, আপনি আসুন। আমরা ভারতকে চিঠি লিখেছি। এই যে ভারতের হাইকমিশনার আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করছেন, প্রত্যেক জায়গা কী কথা ছিল—যে আমরা তাকে আনতে চাই এবং যত দিন উনি সেখানে আছেন, কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন না। ভারতের পার্লামেন্টের একটি কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে এবং তারা মনে করে, শেখ হাসিনার ওখানে রাজনীতি করা উচিৎ হবে না, সেই অনুমতি দেয়া ঠিক হবে না।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, যাকে ধরে আনতে চাই...উনি বলছেন আসবেন। তো উনি আসুক, আমরা প্রস্তুত আছি এবং এটাও বলছি...আমরা তার প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব। আইনগত যা যা, অবশ্যই গ্রেফতার হবেন। গ্রেফতারের পর ওনার যা আইনগত অধিকার, উনি সেটা চর্চা করুন। ...আদালত যে রায় দেবেন, সে মৃত্যুদণ্ড বহাল, খালাস—যা–ই হোক, সেটা মেনে নিতে প্রস্তুত আছি।