মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সব আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দেশটির কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এ রায় দেন। খবর
আদালত জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড আইন অনুসারে এই শুল্ক আরোপের যথেষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। সরকারের দাবি করা বাণিজ্য ঘাটতির পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যা এই ধরনের শুল্ককে বৈধতা দিতে পারে।
রায়ে আরো বলা হয়েছে, মামলার সঙ্গে যুক্ত পক্ষগুলোর কাছ থেকে এই শুল্ক আদায় বন্ধ করতে হবে এবং আগে নেয়া অর্থ ফেরত দিতে হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত আপাতত শুধু মামলাকারীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। অন্য আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে শুল্ক জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের ওপর এ শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এজন্য তারা ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ ব্যবহার করে। এ সেকশন অনুযায়ী, কোনো দেশের বড় ও গুরুতর ভারসাম্যহীন বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য আরোপ করতে পারেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও এ শুল্কের মেয়াদ আর মাত্র দুই মাস বাকি, তবুও রাজনৈতিকভাবে এটি ট্রাম্পের জন্য বড় পরাজয়। বিশেষ করে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য আলোচনার এক সপ্তাহ আগে এ ধরনের রায় ট্রাম্পের অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।
এর আগে জাতীয় জরুরি অবস্থা আইন ব্যবহার করে আরোপিত ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক নীতিকে বাতিল করেছিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। সেই ঘটনার তিন মাস কাটতে না কাটতেই নতুন এই রায়ের ফলে বিলিয়ন ডলারের শুল্ক ফেরত দেয়া নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী আইনি লড়াইয়ের পথ তৈরি হলো।
আদালতের এ সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে এক প্রকল্প পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আদালতের কোনো কিছুতেই আমি অবাক হই না। এটি দুইজন কট্টর বামপন্থী বিচারকের কাজ। এক পথে বাধা পেলে আমরা ভিন্ন পথে এগোব।
এদিকে আইনি লড়াই চললেও ট্রাম্প প্রশাসন দমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে না। প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর বড় ধরনের শুল্ক চাপিয়ে দিতে এখন তারা ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার এ আইনি ধারাটি অতীতেও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকে ছিল। বর্তমানে এই ধারার অধীনে তিনটি তদন্ত চলছে, যা জুলাইয়ের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।










