আহত হয়েছেন কয়েক ডজন। হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। কলকাতাসহ একাধিক এলাকায় দলীয় কার্যালয় দখল, পতাকা নামিয়ে ফেলা এবং বাড়িঘরে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুজনই কলকাতার। বেলেঘাটায় নিহত হন তৃণমূল কংগ্রেসের পোলিং এজেন্ট বিশ্বজিৎ পট্টনায়ক। পরিবারের সদস্যদের দাবি, রাতে একটি ফোনকল পাওয়ার পর তিনি বাড়ির বাইরে বের হন। এরপর একদল লোক দরজা ভেঙে তাকে টেনে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে বাড়ির সামনে পাওয়া যায়। পরিবারের অভিযোগ, আশপাশের মানুষ আতঙ্কে এগিয়ে আসতে পারেননি।
এর কয়েক ঘণ্টা পর কলকাতার নিউ টাউনে আরেক সংঘর্ষে নিহত হন বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডল। পুলিশ জানিয়েছে, একটি দলীয় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এছাড়া সহিংসতা দ্রুত কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বেহালা, কালীঘাট ও শ্যামপুকুরসহ বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয়ে হামলা, গাড়ি ভাংচুর ও পতাকা নামিয়ে ফেলার ঘটনা ঘটে। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর আসনে এক কাউন্সিলরের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। কয়েকটি ওয়ার্ডে তৃণমূলের কার্যালয় দখল করে সেখানে বিজেপির পতাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার হগ মার্কেটে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
কলকাতার বাইরে হাওড়ার উদয়ননপুরেও সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন বিজেপি কর্মী যাদব বার। অন্যদিকে বীরভূম জেলার নানুরে তৃণমূল কর্মী আবির শেখকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া জলপাইগুড়িতেও নতুন করে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী শনিবার সকাল ১০টায় কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এ অনুষ্ঠান হবে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। তবে বিধানসভা দলের নেতা হিসেবে এখনো কারো নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে এখনো পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবনির্বাচিত তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা বলেছেন, ‘আমরা হয়তো হেরেছি, কিন্তু লড়াই চালিয়ে যাব। তিনি পদত্যাগ করবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন। তার ভাষায়, ‘ওরা চাইলে আমাকে বরখাস্ত করুক।’ নির্বাচনের ফলাফলকে তিনি ‘কালো দিন’ আখ্যা দিয়ে বিধানসভার প্রথম দিনে কালো পোশাক পরে আসার নির্দেশ দেন দলীয় বিধায়কদের।










