গাজা ভূখণ্ড পুরোপুরি দখলের পরিকল্পনায় যাচ্ছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দেশটির মন্ত্রিসভা এই পরিকল্পনা অনুমোদন করতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যমগুলো। প্রায় দুই দশক পর এই প্রথমবারের মতো গাজা দখলে বড় পদক্ষেপ নিতে পারে তেল-আবিব। তবে মানবিক বিপর্যয় এড়াতে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল। খবর রয়টার্স।
ইসরায়েলের একটি সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজা দখলের পূর্ণ সামরিক অভিযানের পক্ষে রয়েছেন। প্রায় ২২ মাসের যুদ্ধের পর তার সরকার পুরো গাজা নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পরিকল্পনা করছে।
ইসরায়েলি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামাসের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি না থাকায় ইসরায়েল এখন আরো শক্তি প্রয়োগের চিন্তা করছে। তবে দখলের পর দীর্ঘমেয়াদে গাজাকে সামরিকভাবে শাসন করা হবে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে, ২০০৫ সালে গাজা থেকে সেনা ও বসতি প্রত্যাহার করেছিল ইসরায়েল। তবে বর্তমান ডানপন্থী সরকার সে সিদ্ধান্তকে ভুল মনে করে ও তারা গাজা পুনর্দখলের পক্ষপাতী।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দীর্ঘমেয়াদি দখলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, জনবল সংকট ও যুদ্ধকালীন চাপের কারণে এটি বাস্তবায়ন কঠিন।
এদিকে গাজার কেন্দ্রস্থলে ইসরায়েলি ট্যাংক ও সেনারা প্রবেশ করেছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার গাজায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েলের এই হুমকি মূলত হামাসকে চাপ দিতে। তবে এতে আলোচনার পথ বন্ধ হচ্ছে।
গাজায় কিছু পণ্যের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ইসরায়েল। এরই মধ্যে চকলেট ও বিস্কুটবাহী ট্রাক উপত্যকায় প্রবেশ করেছে। এই ধারাবাহিকতায় শিশুদের জন্য দুধ ও খাদ্যপণ্য ঢুকতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে।
গত বছর ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়। এতে গাজায় ৬০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে ও ২০ লাখ মানুষ আশ্রয় হারিয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই অবস্থায় ইউরোপের কিছু দেশ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি না হলে তারা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।










