যুদ্ধের আগে এ হার ছিল ৪০ শতাংশের ওপরে। ৪ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে মূল্যস্ফীতি ভয়াবহ রূপ নেয়। নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়াসহ দেখা দেয় কর্মী ছাঁটাইয়ের আতঙ্ক। খবর এফটি।
তেহরানের স্থানীয় বাজারে দেখা যায়, প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম এখন লাগামহীন। সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে, যুদ্ধের আগের তুলনায় সবকিছুর দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এক সপ্তাহ আগেও যে এক ব্লক পনিরের দাম ছিল ৫২ লাখ ইরানি রিয়াল, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ লাখ রিয়ালে। চাল, ডিম ও মুরগির মাংসের মতো জরুরি খাদ্যপণ্যের দামও প্রতিদিন বাড়ছে।
বিলাসদ্রব্য বা যানবাহনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরো জটিল। অনলাইন ডিলারদের তথ্যানুযায়ী, ইরানে জনপ্রিয় কার মডেল ‘পিউজো ২০৭’-এর দাম ১৮ বিলিয়ন রিয়াল থেকে লাফিয়ে ২৫ বিলিয়ন রিয়ালে পৌঁছেছে। এছাড়া নির্মাণসামগ্রী হিসেবে পরিচিত সিমেন্টের দামও সরকার ৪০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ব্যবসায়িক বিশ্লেষক সিয়ামাক ঘাসেমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে হলে বেতন অন্তত দ্বিগুণ বাড়ানো প্রয়োজন। অন্যথায় মধ্যবিত্তের টিকে থাকা কঠিন হবে। তিনি সাধারণ মানুষকে স্থানীয় মুদ্রা রিয়ালে সঞ্চয় না করার পরামর্শ দিয়েছেন, যা জনমনে আরো আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবে দেশটির শিল্প খাতও বিপর্যস্ত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে ইরানের রাস্তাঘাট, গ্যাস সরবরাহ এবং পেট্রোকেমিক্যাল ও স্টিল কারখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পণ্য বিক্রি কমে যাওয়া ও উৎপাদন খরচ বাড়ায় অনেক কোম্পানি এখন কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছে। তেহরানের বাইরের একটি পেট্রোকেমিক্যাল সংশ্লিষ্ট কারখানা এরই মধ্যেই তাদের এক-তৃতীয়াংশ কর্মী ছাঁটাই করেছে। পাশাপাশি তেহরানের এক পোশাক ব্যবসায়ী জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহে তার খরচ দাঁড়িয়েছে ৫ বিলিয়ন রিয়ালে, অন্যদিকে তার বিক্রি হয়েছে ২ বিলিয়ন রিয়াল। দেশটিতে সরকারের নির্ধারিত বর্ধিত বেতন দেয়ার সামর্থ্যও এখন অনেক প্রতিষ্ঠানের নেই।










