মরক্কো থেকে সাঁতরে স্পেনের উত্তর আফ্রিকায় ছিটমহল সিউতায় প্রবেশের চেষ্টাকালে অন্তত ১৮ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৪৯ হাজার মানুষ ছিটমহলটিতে প্রবেশ করায় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিভিন্ন দেশও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
মরক্কোর উপকূল থেকে সাঁতরে কিংবা সীমান্তের উঁচু বেড়া টপকে অভিবাসীরা সিউতায় প্রবেশ করেন। প্রায় ৮৫ হাজার জনসংখ্যার এ ছোট্ট শহরে হঠাৎ বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমনে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কার সঙ্গে সিউতা সফরের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের।
এর আগে ২০২১ সালের মে মাসে দুদিনে প্রায় ১০ হাজার অভিবাসী সিউতায় প্রবেশ করেছিলেন। তখন পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে মাদ্রিদ ও রাবাতের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেছিল মরক্কো।
মরক্কো সরকারের সূত্র ইউরোপা প্রেসকে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এ অনুপ্রবেশের পেছনে ‘অপরাধী চক্র’ কাজ করেছে। তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় স্পেনের সঙ্গে মরক্কোর সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলেও দাবি করেছে দেশটি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিউতায় অতিরিক্ত ৬০ সেনাসদস্য ও ৩০ জন গার্দিয়া সিভিল সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দেয় স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্থানীয় গার্দিয়া সিভিল সদস্যদের সংগঠনের নেতা রশিদ সিবিহি বলেন, শহরে গুরুতর মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। আশ্রয়ের অভাবে হাজারো মানুষ, যার মধ্যে অভিভাবকহীন শিশুও রয়েছে, পার্ক ও ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছেন। অনেকেই উদ্দেশ্যহীনভাবে শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত ১৮ জনের মধ্যে অনেকে সাঁতরে পার হওয়ার সময় ডুবে মারা গেছেন। আবার কয়েকজন তারাজাল সৈকতের ব্রেকওয়াটারসংলগ্ন সীমান্ত বেড়া পার হওয়ার চেষ্টাকালে পদদলিত হয়ে প্রাণ হারান।
স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, তারাজাল সৈকতের ব্রেকওয়াটার পেরিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেউতার সড়কে প্রবেশ করছেন। তাদের মধ্যে তরুণদের পাশাপাশি নারী ও ছোট শিশুদেরও দেখা গেছে।










