গতকাল কলকাতায় অনুষ্ঠিত বিজেপির বিধায়ক দলের বৈঠকে তার নাম ঘোষণা করা হয়। আজ কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ব্রিগেড ময়দানে শপথ নেবেন তিনি। অন্যদিকে তামিলনাড়ুতেও সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছানোর দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা থালাপতি বিজয়। কংগ্রেস, বামপন্থী দল ও আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন পাওয়ার পর তার দল তামিলাগা ভেত্রি কাজগম (টিভিকে) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করেছে।
গতকাল কলকাতায় বিজেপি নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলিপ ঘোষ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করেন, যাতে সায় দেন বিধায়করা। পরে অমিত শাহ বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে শুভেন্দুর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। একসময় তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। বিজেপিতে যোগ দেয়ার পর দ্রুতই পশ্চিমবঙ্গে দলটির অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক প্রচার পরিচালনা করেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন শুভেন্দু। সাম্প্রতিক নির্বাচনে তিনি মমতার ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি ভবানীপুর আসন থেকেও জয় পেয়েছেন। সেখানে তিনি ১৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।
বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, নতুন সরকারে দুজন উপমুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। গত দুই দশকে পশ্চিমবঙ্গে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ কার্যত ছিল না। সম্ভাব্য উপমুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন আসানসোল দক্ষিণ থেকে নির্বাচিত বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও শিলিগুড়ির বিজয়ী প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ। কলকাতায় অমিত শাহ পৃথকভাবে অগ্নিমিত্রা পাল ও শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।
নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আজ কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেন্ড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
এদিকে টানা চারদিন ধরে নানা জটলার পর অবশেষে তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের জন্য ম্যাজিক ফিগারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন থালাপতি বিজয়। কংগ্রেস, স্থানীয় দল ভিসিকে এবং বামপন্থীদের দুই দল সিপিআই ও সিপিএমের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করছে তারা। যদিও সরকার গঠন নিয়ে নানা নাটকীয়তা দেখা দিয়েছিল। ২৩৪টি আসনের মধ্যে তারা ডিএমকে পায় ১০৮টি। এর মধ্যে বিজয় নিজে লড়েছিলেন দুটি আসনে। ফলে দলের মোট বিধায়ক সংখ্যা ১০৭। কিন্তু ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮ বিধায়কের সমর্থন।
রাজ্যপালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ ছাড়া তিনি বিজয়কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন না। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দফা বৈঠকের পরও রাজ্যপাল তার অবস্থানে অনড় ছিলেন। বৃহস্পতিবার তিনি বিজয়কে সরাসরি জানান, সরকার গঠন করতে হলে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন।
কংগ্রেস আগেই টিভিকেকে নিঃশর্ত সমর্থন জানিয়েছিল। গতকাল বিজয়ের সরকার গঠনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানায় সিপিআই, সিপিএম ও স্থানীয় দল ভিসিকে। তিন দলই দুটি করে আসন জিতেছে। ফলে বিজয়ের পক্ষে ১১৮ জনের সমর্থন নিশ্চিত হয়।










