মধ্যপ্রাচ্যে পাঁচ মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন করে আরো বিস্তৃত হয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মিসরের একটি বন্দরে ড্রোন হামলায় দুটি গ্যাসবাহী জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ এখন শুধু পারস্য উপসাগর বা লোহিত সাগরে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ধীরে ধীরে নতুন ভৌগোলিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মিসরের বন্দরে হামলার ঘটনা সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। কারণ এর আগে যুদ্ধের প্রভাব মূলত পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলেও হামলার ঘটনা ঘটায় জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মিসরের মন্ত্রিসভা আজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বুধবার ভূমধ্যসাগর উপকূলের দামিয়েত্তা বন্দরে দুটি জাহাজে আগুন লাগার পেছনে ড্রোন হামলা দায়ী। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। মিসর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে এর আগে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ জাহাজে ড্রোন আঘাত হেনেছে। পরে বাণিজ্যিক সূত্রগুলো জানায়, হামলার লক্ষ্য ছিল এনার্জি উইন্টার নামে ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট। এতে আগুন ধরে পাশেই থাকা আরেকটি জাহাজেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ব্রিটিশ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড জানায়, জাহাজটির ডান পাশে অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল আঘাত করলে আগুন লাগে, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের হামলার চেষ্টার জবাবে বুধবার রাতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে ভারী হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাসংশ্লিষ্ট অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপসহ কয়েকটি এলাকায় হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই বছরের একটি শিশুও রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ ও পশ্চিম ইরানের আরও কয়েকটি স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

গত সপ্তাহে কয়েক দিনের তুলনামূলক শান্ত অবস্থার পর নতুন করে এই সংঘাত শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছিল। যদিও তেহরান এমন কোনো আলোচনা হওয়ার কথা অস্বীকার করে। এরপর জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার পর আবারও পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান শুরু হয়।