কলম্বোর উপকণ্ঠে অবস্থিত মহারা কারাগারের কয়েদিরা সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন। এবারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজন কয়েদি নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশটির সব প্রধান কারাগারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে মহারা কারাগারে দাঙ্গার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও এলিট কমান্ডো বাহিনীর শত শত সদস্য মোতায়েন করেছে দেশটির সরকার। রোববার দেশটির সামরিক বাহিনীর ওই সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। খবর রয়টার্স।
প্রায় এক মাস আগে একই অঞ্চলের আরেকটি কারাগারে দাঙ্গা হয়েছিল। নেগোম্বো কারাগারে সংঘাতের ঘটনায় ১০ জন কারারক্ষী ও ২১ জন কয়েদি নিহত হন। আহত হন শতাধিক মানুষ।
লংকান পুলিশের উপমহাপরিদর্শক সঞ্জীব মেদাওয়াত বলেছেন, রাজধানী কলম্বোর উপকণ্ঠে অবস্থিত মহারা কারাগারের ভেতরে কয়েদিরা শনিবার একাধিক ভবন ধ্বংস করেছেন। ওই সময় কয়েদিদের সহিংসতায় অন্তত একজন নিহত ও আরো ছয়জন আহত হয়েছেন। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কারাগারের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং কয়েদিদের নিজ নিজ কক্ষে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে আমরা সশস্ত্র বাহিনী ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের কমান্ডোদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সহায়তা পেয়েছি।’ মেদাওয়াত বলেছেন, মহারা কারাগারের কয়েদিরা ভেতরের রান্নাঘর, হাসপাতাল, নতুন নির্মিত একটি পুনর্বাসন ভবন এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, কারাগারটিতে ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ অর্থাৎ মোট ৪ হাজার ১০০ জন কয়েদিকে রাখা হয়েছিল। শ্রীলঙ্কার প্রায় সব কারাগারেই ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি কয়েদি রয়েছে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত কয়েদি সামাল দিতে গত মাসে অব্যবহৃত সরকারি ভবনগুলোকে কারাগারে রূপান্তর করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে শ্রীলঙ্কার তিন-চতুর্থাংশের বেশি কয়েদিই বিচারাধীন বন্দি; যারা বিচারের প্রহর গুনছেন। তাদের সিংহভাগকেই মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের দায়ে আটক রাখা হয়েছে।










