বিশ্বের অন্যতম পবিত্র স্থান সিনাই পর্বতকে বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে মিসর। বৃহস্পতিবার মিশরের গৃহায়ন মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার শেরিফ এল-শেরবিনি সিনাই পর্বতের সেন্ট ক্যাথরিন অঞ্চল পরিদর্শন করেন।

এসময় তিনি জানান, সেন্ট ক্যাথরিনের জায়তৌনা এলাকায় ২১টি হোটেল কমপ্লেক্স স্থাপনের কাজ চলছে। যেখানে দর্শনার্থীদের সেবার জন্য মোট ৫৪৬টি হোটেল আবাসিক ইউনিট থাকবে। আর এর পরেই পবর্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

সিনাই উপদ্বীপের জাবাল মুসা নামের পাহাড়কে মুসলিম, ইহুদী ও খ্রিষ্টানরা একইভাবে শ্রদ্ধা করে। বিশ্বাস করা হয় এখানেই নবী মুসা (আ.) দশ আজ্ঞা লাভ করেছিলেন। এখানেই আল্লাহ তার সঙ্গে ‘জ্বলন্ত গুল্মের’ মাধ্যমে কথা বলেছিলেন। পাহাড়ের পাদদেশে আছে ষষ্ঠ শতকের ঐতিহাসিক সেন্ট ক্যাথারিন মঠ, যা গ্রিক অর্থোডক্স চার্চের তত্ত্বাবধানে। এটি ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।

কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মঠ, পাহাড় ও শহর মিলিয়ে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ঘোষিত এ এলাকায় শুরু হয়েছে মেগা পর্যটন প্রকল্প- গ্রেট ট্রান্সফিগারেশন প্রজেক্ট। ২০২১ সালে শুরু হয় এর নির্মাণ কাজ। এর মধ্যে রয়েছে হোটেল, ইকো-লজ, ভিজিটর সেন্টার, বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, এমনকি মাউন্ট সিনাই পর্যন্ত ক্যাবল কার নির্মাণ। মিশর সরকার একে বলছে—সমগ্র পৃথিবীর জন্য উপহার।

তবে এ উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় বেদুইন জনগোষ্ঠী জেবেলেয়া গোত্র। অভিযোগ উঠেছে, বিনা ক্ষতিপূরণে জেবেলেয়া গোত্রের মানুষদের বাড়িঘর ও ইকো-ক্যাম্প ভেঙে দেয়া হয়েছে। এমনকি নতুন গাড়ি পার্কিং নির্মাণের জন্য কবরস্থান সরিয়ে মৃতদেহ পর্যন্ত অন্যত্র নিতে বাধ্য করা হয়েছে।

প্রকল্পটি নিয়ে সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে গ্রিস। সেন্ট ক্যাথরিন মঠের জমি নিয়ে মিশর ও গ্রিসের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি মিশরের আদালত রায় দিয়েছে সেন্ট ক্যাথরিন মঠ রাষ্ট্রীয় জমিতে অবস্থিত, এটা তারাই ব্যবহারের অধিকার রাখে। যদিও পরে গ্রিস–মিশরের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতার পর দুই দেশ যৌথ বিবৃতিতে মঠের গ্রিক অর্থোডক্স পরিচয় ও ঐতিহ্য রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এর ফলে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধ্বংস হচ্ছে। উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউনেস্কো জানিয়েছে, এই পাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে মানুষের আধ্যাত্মিক বন্ধন জড়িয়ে আছে। যা প্রকল্পের কারণে ধ্বংস হচ্ছে।

সিনাইয়ের বেদুইনরা বহু দশক ধরে অভিযোগ করছেন, তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখা হয়। এখানে নতুন করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলে তারা ব্যবসা ও জীবিকা হারাবেন।

বিবিসি অবলম্বনে