ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে সেখানে ইহুদি প্রার্থনা করে ব্যাপক বিতর্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছেন। কয়েক দশক পুরনো এক চুক্তি অনুযায়ী ইহুদিদের ঐতিহ্যবাহী টেম্পল মাউন্ট হিসেবে পরিচিত এ স্থানে শুধু ভ্রমণের অনুমতি থাকলেও প্রার্থনা নিষিদ্ধ। খবর এপি।

ছবি ও ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বেন-গভির পুলিশের নিরাপত্তায় ঘেরা অবস্থায় আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন এবং ইহুদি ধর্মীয় প্রার্থনায় অংশ নেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ‘ইসরায়েলের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি, এবং পুরনো স্ট্যাটাস কো বজায় রাখা হচ্ছে’। পুরনো সেই রীতি অনুসারে কেবল মুসলিমদেরই সেখানে উপাসনার অধিকার রয়েছে।

তবে ঐতিহাসিকভাবে এ ধর্মীয় স্থানের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা জর্ডান এ ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য উসকানি’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র বলেন, ‘এ ঘটনা সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।‘

অন্যদিকে, হামাস এটিকে ‘ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসনের মাত্রা বৃদ্ধি’ বলে মন্তব্য করেছে।

ইসরায়েল ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জর্ডানের কাছ থেকে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়। সেই থেকে জর্ডান ধর্মীয় তত্ত্বাবধায়ক হলেও নিরাপত্তা ও প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করে ইসরায়েল।

ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইহুদি দর্শনার্থীরা নিয়মিত প্রার্থনা করছেন এবং ইসরায়েলি পুলিশ তাদের বাধা দিচ্ছে না।

আল-আকসার দেখভালকারী ইসলামিক ওয়াকফ জানায়, রোববার সকালে বেন-গভির সহ মোট ১,২৫০ জন ইহুদি এই স্থানে প্রবেশ করেন।

টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, বেন-গভির অতীতেও এই স্থান পরিদর্শন করেছেন, তবে এবারই প্রথম তিনি সেখানে প্রকাশ্যে প্রার্থনা করলেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আসলে সাধারণ মানুষের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং সম্ভবত যুদ্ধাপরাধের শামিল।

বেন-গভিরের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সহিংস উস্কানির অভিযোগে এরইমধ্যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।