পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এ লিখিত জবাব পাঠানো হয়েছে। তবে তেহরান কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র গতকাল জবাব পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইরান তাদের জবাবে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি এবং হরমুজ প্রণালিসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারাও তেহরানের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রস্তাবের জবাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সূত্র বলছে, যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করতে শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে এ পর্যন্ত দুই দেশ একাধিক দফায় পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব আদান-প্রদান করলেও এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
গত সপ্তাহে ইরানের কাছে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবারের মধ্যে ইরান এ প্রস্তাবের জবাব দেবে বলে আশা করা হলেও তা বিলম্বিত হয়। এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার থেকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে দেখা দেয় উত্তেজনা। সেখানে উভয় পক্ষের সেনাদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।
শুক্রবার ইরানের পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকার অচল করে দেয়ার দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র। একই দিনে ওমান উপসাগরে একটি তেলের ট্যাংকার জব্দের দাবি করে ইরান।
এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা জবাবে ইসরায়েলে হামলা চালানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতেও আঘাত হানে ইরান। যুদ্ধ শুরুর প্রায় ৪০ দিনের মাথায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই দেশ অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
এরপর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ১১ ও ১২ এপ্রিল দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। পরে নতুন করে দ্বিতীয় দফা আলোচনার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে।










