পেন্টাগন সূত্রগুলো বলছে, ইরানকে আলোচনায় বাধ্য করার কৌশল হিসেবে এ হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। সম্ভাব্য এ হামলা কেমন হতে পারে এ-সংক্রান্ত পরিকল্পনা গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এদিকে মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল সিএনএনকে জানান, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্রিফিং ও বিভিন্ন সূত্র থেকে তিনি আভাস পেয়েছেন যে ইরানে আবারো হামলা চালানোর বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসন সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।
আক্রান্ত হলে পাল্টাহামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরানও। ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে ইরানে সীমিত আকারেও হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানগুলোর ওপর ‘দীর্ঘমেয়াদে যন্ত্রণাদায়ক হামলা’ শুরু হবে। বিপ্লবী গার্ডের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার মাজিদ মুসাভি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনাদের আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোর কী অবস্থা হয়েছে আমরা দেখেছি। আপনাদের যুদ্ধজাহাজগুলোর ক্ষেত্রেও একই দশা হবে।’
গতকাল হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইরানে ‘চূড়ান্ত হামলা’ বিষয়ে সম্ভাব্য বিকল্প উপস্থাপন করেন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে ইরানের ‘অবশিষ্ট সামরিক সম্পদ, নেতৃত্ব ও অবকাঠামো’। এছাড়া উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন বৃদ্ধি নিয়েও ভাবছে পেন্টাগন। এর মধ্যে রয়েছে ‘ডার্ক ঈগল’ নামের নতুন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ২ হাজার মাইল বা ৩ হাজার ২১৮ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। ইরানের অবশিষ্ট ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করতে পারবে ডার্ক ঈগল। এতে আরো বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে বি-১বি ল্যান্সার বোমারু উড়োজাহাজের উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে। উড়োজাহাজগুলো পাঁচ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত হাইপারসনিক অস্ত্র ও ‘বড় আকারের গোলাবারুদ’ বহন করতে সক্ষম।
এছাড়া ইরানে নতুন করে হামলার ক্ষেত্রে যাতে কংগ্রেসের অনুমোদন না লাগে সেজন্য বিকল্প কৌশল নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের দাবি, এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সংঘাতের সমাপ্তি ঘটিয়েছে। ফলে হোয়াইট হাউজকে যুদ্ধের জন্য আর কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে না। এ যুক্তির ভিত্তিতে ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, ১৯৭৩ সালের আইনে নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নেয়ার বাধ্যবাধকতা এখনো তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়নি।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদন বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর মাটির নিচে বা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে ইরান। একজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট আরো দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে তেহরান তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে। ট্রাম্প যদি আবার সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নেন, তবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টাহামলা চালানোর প্রস্তুতি হিসেবেই তেহরান এ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।










