নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ৮১ বছর বয়সী সু চির স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অনিশ্চয়তা রয়েছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম কোনো বিদেশী প্রতিনিধি বা দূত তার সঙ্গে প্রকাশ্যে সাক্ষাৎ করেছেন।
মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র খাইং খাইং সো টেলিগ্রাম বার্তায় জানান, দেশটিতে আইসিআরসির আবাসিক প্রতিনিধি ও প্রতিনিধি দলের প্রধান আরনো দ্য বেক সু চির সঙ্গে দেখা করেন। আইসিআরসি এক বিবৃতিতে সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে সংস্থাটি কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করেনি।
বিবৃতিতে আইসিআরসি জানায়, স্বাধীনতাবঞ্চিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে সংস্থাটির প্রচলিত নীতিমালা ও পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সু চির সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগও পেয়েছেন রেড ক্রসের প্রতিনিধি। এ ধরনের সাক্ষাতের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সংবাদ আদান-প্রদানের সুযোগ পান বলেও জানানো হয়।
সরকারি মুখপাত্র চারটি ছবি প্রকাশ করেছেন। এর দুটিতে ঐতিহ্যবাহী বার্মিজ পোশাক পরা সু চিকে কাঠের দেয়ালঘেরা একটি সাধারণ কক্ষে রেড ক্রস কর্মকর্তার সঙ্গে বসে থাকতে দেখা যায়। কক্ষটিতে দুটি চেয়ার ও একটি টেবিল ছাড়া খুব বেশি আসবাব ছিল না। আরেকটি ছবিতে সু চিকে তার নাম লেখা জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা গেছে। কেকটিতে লেখা ছিল, ‘হ্যাপি বার্থডে আন্টি সু ১৯.৬.২০২৬’। তবে ছবিগুলো কোথায় ও কবে তোলা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার উৎখাত করা হয়। এরপর গোপন বিচারের ধারাবাহিকতায় দুর্নীতি, নির্বাচনী জালিয়াতিতে উসকানি ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে প্রথমে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে সাজা কমিয়ে ২৭ বছর করা হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে তা আরো এক-ষষ্ঠাংশ কমানো হলে বর্তমানে তার ১৮ বছরের সাজা বাকি রয়েছে।










