গতকাল রাতে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় চলন্ত গাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এ হামলায় চন্দ্রনাথের সঙ্গে থাকা বুদ্ধদেব বেরাও আহত হন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।
এদিকে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পরই রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সহিংসতা। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির সমর্থকদের সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক ডজন। হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। কলকাতাসহ একাধিক এলাকায় দলীয় কার্যালয় দখল, পতাকা নামিয়ে ফেলা এবং বাড়িঘরে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে চন্দ্রনাথের গাড়ির পিছু নেয় দুর্বৃত্তরা। মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় পৌঁছার পর গাড়ি লক্ষ্য করে পরপর চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চন্দ্রনাথকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্য নিহতদের মধ্যে দুজনই কলকাতার। বেলেঘাটায় নিহত হন তৃণমূল কংগ্রেসের পোলিং এজেন্ট বিশ্বজিৎ পট্টনায়ক। পরিবারের সদস্যদের দাবি, রাতে একটি ফোনকল পাওয়ার পর তিনি বাড়ির বাইরে বের হন। এরপর একদল লোক দরজা ভেঙে তাকে টেনে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে বাড়ির সামনে পাওয়া যায়। পরিবারের অভিযোগ, আশপাশের মানুষ আতঙ্কে এগিয়ে আসতে পারেননি।
এর কয়েক ঘণ্টা পর কলকাতার নিউ টাউনে আরেক সংঘর্ষে নিহত হন বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডল। কলকাতার বাইরে হাওড়ার উদয়নপুরেও সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন বিজেপি কর্মী যাদব বার। অন্যদিকে বীরভূম জেলার নানুরে তৃণমূল কর্মী আবির শেখকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া জলপাইগুড়িতেও নতুন করে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী শনিবার সকাল ১০টায় কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এ অনুষ্ঠান হবে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। তবে বিধানসভা দলের নেতা হিসেবে এখনো কারো নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে এখনো পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবনির্বাচিত তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা বলেছেন, ‘আমরা হয়তো হেরেছি, কিন্তু লড়াই চালিয়ে যাব।’ তিনি পদত্যাগ করবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন। তার ভাষায়, ‘ওরা চাইলে আমাকে বরখাস্ত করুক।’ নির্বাচনের ফলাফলকে তিনি ‘কালো দিন’ আখ্যা দিয়ে বিধানসভার প্রথম দিনে কালো পোশাক পরে আসার নির্দেশ দেন দলীয় বিধায়কদের।










