দক্ষিণ ফ্রান্সের ভয়াবহ দাবানলের পর লে পর্জ গ্রামে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার প্রায় ৪০০টি গোলা ও বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাবানলের তাপে এসব গোলাবারুদের অনেকগুলো বিস্ফোরিতও হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের সময় শোনা বিস্ফোরণের শব্দগুলো গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে যাওয়ার বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে পরে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, দাবানলের তাপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার গোলাবারুদ বিস্ফোরিত হওয়ার কারণেই এসব শব্দ শোনা যায়।

লে পর্জের মেয়র মার্শাল জানিনেত্তি ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ইনফোকে বলেন, আগুন লাগার দ্বিতীয় রাতে শতাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তার ভাষায়, পুরো পরিস্থিতি ছিল ‘যুদ্ধের শব্দের’ মতো।

পরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের অভিযান শেষে অধিকাংশ বাসিন্দা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে পেরেছেন। তবে কয়েকটি এলাকা এখনো সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ রয়েছে। দাবানলে ওই এলাকায় ১৮০টিরও বেশি বাড়ি পুড়ে গেছে।

মেয়র জানান, তাদের পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে মাটির নিচে গোলাবারুদের মজুদ ছিল, কিন্তু স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আগে এ বিষয়ে জানত না। আগুনের তাপে সেগুলো একের পর এক বিস্ফোরিত হয়। তিনি বলেন, গোলাগুলো চারদিকে ছিটকে যাচ্ছিল।

সোমবার ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক বিবৃতিতে মেয়র জানান, এখনো বেশ কিছু জায়গায় প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে। এর মধ্যে সমুদ্রসৈকতে যাওয়ার পথ, একটি ক্যাম্পসাইট এবং লা জেনি গ্রামে প্রবেশ এখনো নিষিদ্ধ রয়েছে।

ফরাসি গণমাধ্যম জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদের মধ্যে জার্মান ও ফরাসি বাহিনীর ব্যবহৃত মর্টারের গোলা এবং অ্যান্টি-ট্যাংক শেলও রয়েছে।

গিরন্দ অঞ্চলে প্রায় ১০ দিন ধরে চলা ভয়াবহ দাবানলের পর এসব গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে ওই অঞ্চলের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

সোমবার প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, লে পর্জের অনেক পরিবার পুড়ে যাওয়া নিজেদের বাড়ির ধ্বংসস্তূপে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র খুঁজছেন।

এদিন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অভূতপূর্ব এ সংকটের মুখে ফ্রান্স দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি বলেন, গিরন্দ অঞ্চলে দাবানল মোকাবেলার অভিযান এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং সরিয়ে নেয়া বাসিন্দারা ধীরে ধীরে বাড়িতে ফিরছেন।

গত দুই সপ্তাহ ধরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। এ সময় তিন লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিকে দেশটির সবচেয়ে বড় বনাঞ্চলের দাবানলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

-বিবিসি