মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আজ শনিবার তিনি মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ান।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল তার পদত্যাগ। এ দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি), বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) নিজের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় আটকে না যায় এবং তারা যাতে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে—তা নিশ্চিত করতেই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে দেয়া পদত্যাগপত্রে তিনি লেখেন, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা সংস্কারের কাজে নিয়োজিত রয়েছি। একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থাই যে সমৃদ্ধ ভারতের ভিত্তি—সেটি আমি সবসময় বিশ্বাস করে এসেছি।
গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষায় কিছু অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই ভারত সরকার তদন্তের দায়িত্ব সিবিআইকে হস্তান্তর করে, পরীক্ষা বাতিল করে এবং পুনরায় পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে পরীক্ষাটি সিবিটি (কম্পিউটার-বেসড-টেস্ট) পদ্ধতিতে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
আমাদের মূল অগ্রাধিকার ছিল, ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর পরীক্ষা যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় গত ২১ জুন পরীক্ষাটি পুনরায় সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। গত ১৬ জুলাই ঘোষিত ফলাফলেও বহু মেধাবী শিক্ষার্থী সাফল্য অর্জন করেছেন।
গত ১০ দিনের সার্বিক ঘটনাবলীতে আমি মানসিকভাবে ব্যথিত। এটি আমার ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়; ভারতের তরুণ সমাজের ঐক্য ও শৃঙ্খলা রক্ষা করাই আসল কথা। যন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশবিরোধী কোনো শক্তি যেন বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে এবং আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ যেন কোনো আইনি জটিলতায় না পড়ে, সেজন্যই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।
রাষ্ট্রসেবাই আমার জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আগামী দিনেও দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে প্রভু জগন্নাথের কৃপায় আমি নিজেকে নিয়োজিত রাখব।
এদিকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ওপর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও জনচাপের বড় প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগে শুরু হওয়া আন্দোলন এরই মধ্যে ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তর আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণের পাশাপাশি পরীক্ষায় অনিয়মের জন্য দায়ীদের বিচার, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল বিক্ষোভকারীরা। অন্যান্য দাবিগুলোর বিষয়ে বিজেপি সরকার আগে থেকেই একমত হলেও শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে সুরাহা হয়নি। অবশেষে আজ পদত্যাগ করলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।










