জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ও তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে দ্রুতই দেশের ক্রিকেটে ফিরিয়ে আনতে চান নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, ‘যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে, সেটাকে দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে আমিও চাই সাকিব-মাশরাফিরা যেন আবার বাংলাদেশের ক্রিকেটে ফিরে আসতে পারে। আমরা এ জায়গাটাকে অত্যন্ত নমনীয় ও সহনশীলভাবে প্রাধান্য দিতে চাই। আমরা চাই, যে মামলাগুলো হয়েছে, সেগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সে যেন বাংলাদেশে দ্রুত ফিরে আসতে পারে।’
সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে গেলেও নতুন সরকারে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন আমিনুল হক। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর বিএনপির এ নেতা সংবাদ সম্মেলনে নারী ফুটবলের সাফল্য, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ছেলেদের ব্যর্থতা, হামজা-শোমিতের মতো প্রবাসীদের আগমন এবং তৃণমূলের খেলাধুলাসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। সেখানেই উঠে আসে সাকিব ও মাশরাফি ইস্যু, যারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংসদ সদস্য ছিলেন।
গতকাল সংসদ ভবন চত্বরে শপথ অনুষ্ঠানের পর ক্রীড়াঙ্গনের উন্নতির জন্য নানা পরিকল্পনা তুলে ধরেন আমিনুল। প্রাথমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, কারিগরি, মাদ্রাসায় ‘ক্রীড়া শিক্ষক’ নিয়োগ এবং এক্ষেত্রে সাবেক খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলেন তিনি। খেলাধুলা নিয়মিত আয়োজন নিশ্চিতের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের সরকারিভাবে ‘মাসিক বেতন’-এর আওতায় আনার পরিকল্পনাও আছে তার।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের যাতে কোনো জটের ভেতরে না পড়তে হয়, খেলাধুলাটা নিয়মিত হবে, সেটা আমাদের পুরুষ ফুটবল টিম বলেন, ক্রিকেট বলেন—সব ক্ষেত্রেই। আমাদের নারীরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাদেরও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে, ক্রিকেট, ফুটবল থেকে শুরু করে অন্যান্য স্পোর্টসে নারীদেরও সমানভাবে এগিয়ে রাখতে চাই। কারণ আমরা চাই আমাদের নারী এবং পুরুষ তারা সমানভাবে এগিয়ে যাবে।’
নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার জায়গা থেকে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সার্বিকভাবে আমরা খেলোয়াড়দের সবচেয়ে বেশি মনোযোগে রাখতে চাই। কারণ আমরা চাই, যদি আমার খেলোয়াড়রা ভালো থাকে, তাহলে আমাদের ক্রীড়াঙ্গন ভালো থাকবে। খেলোয়াড়রা যদি ভালো থাকে, পরিবেশ ভালো থাকবে। অবকাঠামো নয়, আমি আমাদের খেলোয়াড়দের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে চাই।’
মেয়েরা ২০২২ ও ২০২৪ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে। ২০০৩ সালের পর ছেলেরা সাফ শিরোপা স্বাদ পায়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা সেই ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। আগামী সাফে ভালো কিছু করার জন্য আমার সরকারের পক্ষ থেকে, আমার পক্ষ থেকে যা যা করণীয় আছে, সর্বোচ্চটুকু আমরা করব।’










