এবারের বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাননি সাকিব। পরে অবশ্য টাইগারদের গোটা দলেরই খেলা হয়নি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপড়েনের কারণে। ৩৮ বছর বয়সী সাকিব না খেললেও বিশ্বকাপের ইতিহাসে তার সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ডটা অন্তত এবারো অক্ষতই থাকতে পারে।
আফগানিস্তানের রশিদ খান, অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম জাম্পা কিংবা শ্রীলংকার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ডি সিলভা এবার সাকিবের রেকর্ড ভাঙতে পারেন বলে জোর সম্ভাবনা ছিল। যদিও তাদের কারোর পক্ষেই এবার রেকর্ড ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না। রশিদ খান ও অ্যাডাম জাম্পার দল বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে, আর ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে হাসারাঙ্গার। ফলে তাদের হাত থেকে আপাতত নিরাপদ রয়েছেন সাকিব।
২০০৭ থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি আসরে খেলা সাকিব ৪৩ ম্যাচে ৫০ উইকেট নিয়েছেন ২০.১২ গড়ে ও ৬.৮৬ ইকোনমি রেটে। ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনবার, সেরা বোলিং ফিগার ৪/৯। এবারের আসরে খেলতে পারলে উইকেটসংখ্যা আরো বাড়িয়ে নিতে পারতেন নিশ্চিতভাবেই।
৫টি বিশ্বকাপ খেলা ৩৩ বছর বয়সী অ্যাডাম জাম্পা ২৫ ম্যাচে নিয়েছেন ৪৪ উইকেট। ১৩.৮৩ গড়ে তিনি উইকেট নিয়েছেন, ইকোনমি রেট ৬.৫২। জাম্পার মতো রশিদ খানও খেলছেন ২০১৬ বিশ্বকাপ থেকে। ২৮ বছর বয়সী এ বিশ্বখ্যাত লেগ স্পিনার ২৭ ম্যাচে ৪৩ উইকেট নিয়েছেন।
এ দুজনের পরই ছিলেন হাসারাঙ্গা, যার সামনে সাকিবের রেকর্ড ভাঙার হাতছানি ছিল। যদিও ৮ ফেব্রুয়ারি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সময় তিনি চোটে পড়েন, যা তার বিশ্বকাপই শেষ করে দেয়। শ্রীলংকা এরপর গ্রুপ ম্যাচ খেলে সুপার এইটে উঠেছে। এছাড়া সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা তো থাকছেই। হাসারাঙ্গার জন্য তাই ৪-৫টা ম্যাচ খেলে সাকিবের রেকর্ড ভাঙার দারুণ সুযোগ ছিল। কিন্তু হলো না চোটের কারণে।
তালিকার পাঁচ ও ছয় নম্বরে থাকা শহিদ আফ্রিদি (৩৯ উইকেট) ও লাসিথ মালিঙ্গা (৩৮ উইকেট) এখন অবসরে। দক্ষিণ আফ্রিকার এনরিখ নরকিয়া ও ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ উভয়েই নিয়েছেন ৩৭ উইকেট। পাকিস্তানের সাবেক স্পিনার সাঈদ আজমল (৩৬) ও নিউজিল্যান্ডের সাবেক পেস বোলার টিম সাউদি (৩৬) শীর্ষ দশ পূর্ণ করেছেন।
সুপার এইট ও সেমিফাইনাল পেরিয়ে ফাইনালে উঠলে এনরিখ নরকিয়া ও আদিল রশিদ পাঁচটি করে ম্যাচ পাবেন। এই পাঁচ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিতে পারলে সাকিবকে টপকে যেতে পারবেন।










