যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হবে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। এ আসরে অংশ নেবে রেকর্ড ৪৮টি দল। এরই মধ্যে তিনটি স্বাগতিক দেশসহ মোট ১৮টি দেশ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এর মধ্যে শুধু লাতিন মহাদেশেই বাছাইপর্ব সম্পন্ন হয়েছে। কনমেবল থেকে ছয়টি দেশ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। সপ্তম হওয়া বলিভিয়াও প্লে-অফ খেলে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার আশায় আছে।
খেলা দেখতে ইচ্ছুক সমর্থকদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণও শুরু হয়েছে। আবেদন গ্রহণ শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্বের ২১০টি দেশের প্রায় ১৫ লাখ মানুষ নিবন্ধন সম্পন্ন করে আবেদন করেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যারা আবেদন করবে তাদের মধ্য থেকে ড্র করে ভাগ্যবান বিজয়ীদের টিকিট কেনার সুযোগ দেয়া হবে। অক্টোবর থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। এরপর আগামী বছর জুন-জুলাই মাসে ৪৮ দলের মহাযজ্ঞ। এখন জেনে নেয়া যাক, বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কারা কোয়ালিফাই করেছে:
কানাডা: যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সঙ্গে মিলে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করছে কানাডা। স্বাগতিক হিসেবে তারাও খেলবে এ আসরে। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে ‘ম্যাপল লিফস’খ্যাত দলটি। ১৯৯৮ সালে প্রথম ও ২০২২ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলেছে তারা এবং দুটি আসরেই তারা কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি।
মেক্সিকো: এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে মেক্সিকো। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের পর আরেকবার ফুটবল উৎসব হবে দেশটিতে। তারা প্রথম দেশ হিসেবে তৃতীয়বার বিশ্বকাপের আয়োজক। অন্যতম স্বাগতিক হিসেবে মেক্সিকোও খেলবে এ আসরে। এ নিয়ে ১৮তম বারের মতো বিশ্বকাপ খেলবে ‘এল ট্রাই’রা। বিশ্বকাপে তাদের সেরা ফল কোয়ার্টার ফাইনাল। ১৯৮৬ ও ১৯৭০ সালের দুটি আসরেই তারা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র: স্বাগতিক হিসেবে কানাডা ও মেক্সিকোর পাশাপাশি বিশ্বকাপে খেলবে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২২ সালের পর টানা দ্বিতীয় আসরে খেলতে যাচ্ছে দেশটি। কাতারে গতকাল শেষ ষোলোয় খেলা মরিসিও পচেত্তিনোর দলটি এবার আরো ভালো করতে চাইবে। এটা হবে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ১২তম অংশগ্রহণ এবং ১৯৯৪ সালের পর দেশের মাটিতে প্রথম। ১৯৩০ সালের আসরে সেমিফাইনাল খেলেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা এখন পর্যন্ত তাদের সেরা ফল।
আর্জেন্টিনা: লাতিন অঞ্চল থেকে এবার প্রথম দল হিসেবে কোয়ালিফাই করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। গত ২৫ মার্চ বলিভিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে কোয়ালিফাই করে তারা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে এবার বাছাইপর্বে শ্রেষ্ঠত্ব দেখায় আর্জেন্টিনা। তিনি বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ ৮ গোল করেছেন। তার দলও দাপটে উঠে যায় বিশ্বকাপে। আর্জেন্টিনার পর বিশ্বকাপের টিকিট পায় ব্রাজিল, কলম্বিয়া, একুয়েডর, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ে। এছাড়া এ পয়েন্ট টেবিলের সাতে থাকা বলিভিয়া বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেতে পারে। তারা বাছাইপর্ব খেলবে দুর্বল নিউ ক্যালেডোনিয়ার সঙ্গে।
ব্রাজিল: বিশ্বের একমাত্র দল হিসেবে প্রতিটি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ব্রাজিল। গত ১০ জুন প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
একুয়েডর: গত ১০ জুন লিমায় স্বাগতিক পেরুর সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে দুই ম্যাচ হাতে রেখে কোয়ালিফাই করে একুয়েডর। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলবে তারা।
উরুগুয়ে: লাতিন জায়ান্ট উরুগুয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে। মার্সেলো বিয়েলসার দল ১৭তম রাউন্ডে পেরুকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেছে।
প্যারাগুয়ে: ৪ সেপ্টেম্বর একুয়েডরের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে বিশ্বকাপের টিকিট পায় প্যারাগুয়ে। ২০১০ সালের পর এই প্রথম বৈশ্বিক আসরে খেলবে তারা।
কলম্বিয়া: ২০২২ আসরে অনুপস্থিত থাকার পর আবারো বিশ্বকাপে ফিরেছে কলম্বিয়া। হামেশ রদ্রিগেজের নেতৃত্বে দলটি আবার সেরাদের মঞ্চে উঠেছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর বলিভিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে তারা ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট পায়।
এছাড়া এশিয়া (এএফসি) থেকে কোয়ালিফাই করেছে অস্ট্রেলিয়া, ইরান, উজবেকিস্তান, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান; আফ্রিকা (সিএএফ) থেকে মরক্কো ও তিউনিসিয়া এবং ওশেনিয়া থেকে নিউজিল্যান্ড পেয়েছে বিশ্বকাপের টিকিট। এশিয়া থেকে আরো দুটি দল সরাসরি কোয়ালিফাই করবে। চতুর্থ রাউন্ডে ‘এ’ গ্রুপে কাতার, ওমান ও আরব আমিরাত এবং ‘বি’ গ্রুপে সৌদি আরব, ইরাক ও ইন্দোনেশিয়া লড়াই করবে। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দল উঠে যাবে বিশ্বকাপে। দুই গ্রুপের রানার্সআপ দল দুবার করে একে অন্যের মুখোমুখি হবে। এ দ্বৈরথের বিজয়ী দল আন্তঃফেডারেশন প্লে-অফে খেলবে। এছাড়া ইউরোপের বাছাইপর্ব চলছে। ইউরোপ থেকে ১৬টি দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে।
এবার সবার আগে কনমেবল অঞ্চলের বাছাইপর্ব সম্পন্ন হয়। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পাশাপাশি উরুগুয়ে, একুয়েডর, কলম্বিয়া ও প্যারাগুয়ের বিশ্বকাপ টিকিট নিশ্চিত হয়েছে। ভেনেজুয়েলাকে পেছনে ফেলে সপ্তম স্থান পায় বলিভিয়া। ১০ সেপ্টেম্বর শেষ ম্যাচে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে বলিভিয়া আশা বাঁচিয়ে রাখে। অবশ্য এজন্য ভেনেজুয়েলার হারের প্রার্থনাও করতে হয়েছে বলিভিয়াকে। ভেনেজুয়েলাকে ৬-৩ গোলে হারিয়ে দেয় কলম্বিয়া। ১৮ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সাতে বলিভিয়া, ১৮ পয়েন্ট নিয়ে আট নম্বরে ভেনেজুয়েলা।
লাতিনে এক রাউন্ড বাকি থাকতেই ছয় দলের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যায়। তবে শেষ রাউন্ডের নাটকীয়তায় প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত হয়। বাংলাদেশ সময় গত বুধবার ভেনেজুয়েলাকে তাদেরই মাঠে ৬-৩ গোলে বিধ্বস্ত করে কলম্বিয়া। এরপর সবার চোখ ছিল বলিভিয়ার মাঠ এল আলতোয়। সেখানে তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে মিগুয়েল টেরসেরোস গোল করে মূল্যবান এক জয় এনে দেন বলিভিয়াকে।
চিলির রেফারি ক্রিস্টিয়ান গ্যারে রিয়েস যখন শেষ বাঁশি বাজান তখন মাঠজুড়ে এক অভাবনীয় দৃশ্যের অবতাড়না হয়। খেলোয়াড়রা সবাই হাঁটু ভাঁজ করে সাফল্য উদযাপন করেন। আকাশে ছিল বর্ণিল আতশবাজি। ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বলিভিয়াজুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। ৩০ বছর পর আবারো সেই উত্তর আমেরিকায় বিশ্বকাপ, বলিভিয়ারও আবার বিশ্বমঞ্চে খেলার হাতছানি।
আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবারের বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ ৮ গোল করেছেন। ফিফা










