নভেল করোনাভাইরাসের কারণে এবারের উইম্বলডন হয়নি, যা ১৯৪৫ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো গ্র্যান্ড স্লাম বাতিলের প্রথম ঘটনা।
অনিশ্চয়তা ছিল পরের মেজর ইউএস ওপেন নিয়েও। যদিও সব অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে সোমবার, যেদিন নিউইয়র্কের ফ্লাশিং মিডোতে শুরু হবে বছরের ‘শেষ’ গ্র্যান্ড স্লাম আসরটি। প্রতি বছর এটি শেষ গ্র্যান্ড স্লাম হলেও করোনার এই বছরে শেষে অনুষ্ঠিত হবে ফ্রেঞ্চ ওপেন, যা মাঠে গড়াবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে।
এবারের ইউএস ওপেন অনুষ্ঠিত হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আবহে। গ্যালারিতে কোনো দর্শক থাকছেন না, কোনো মিশ্র দ্বৈত ইভেন্ট নেই, পুরুষ ও নারী দ্বৈতেও প্রতিযোগী থাকবে সীমিত। এ কারণে টুর্নামেন্টের রাজস্ব কমে যাবে অন্তত ৮০ শতাংশ, গত বছর যা ছিল ৩৯ কোটি ৯৬ লাখ ডলার।
এনবিএ, এনএইচএল কিংবা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পর এবার ‘বাবল’ টেনিসেও। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়রা থাকবেন এই বাবলের মধ্যে, করোনাভাইরাস পরীক্ষা ও তাপমাত্রা পরীক্ষা যার নিয়মিত অংশ। এই বাবলে খেলোয়াড়রা ও তাদের সীমিত সংখ্যক সহযোগীদের হোটেল থেকে টেনিস সাইট ফ্লাশিং মিডোতে বিশেষ গাড়িতে আনা-নেয়া করা হবে। ইউএস ওপেনে খেলতে আসা তারকারা অতীতে বেশিরভাগই ম্যানহাটনের ব্যয়বহুল শ্যাঙ্কিতে থাকলেও এবার তাদের কয়েকজন ছাড়া বাকি সবাই উঠেছেন লং আইল্যান্ডের লং আইল্যান্ড ম্যারিয়ট এবং গার্ডেন সিটি হোটেলে।
এই সপ্তাহে খেলোয়াড়রাও নতুন বিন্যাসে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন-সাধারণত প্রতি বছর ইউএস ওপেনের আগে সিনসিনাটিতে প্রস্তুতি টুর্নামেন্ট হলেও এবার তা আয়োজন করা হয় ফ্লাশিং মিডোতেই। এবং এখন পর্যন্ত কোনো কিছু নিয়ে কারো অভিযোগ নেই।
২০১২ সালের ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন অ্যান্ডি মারে বলেন, ‘সবকিছু দারুন। হোটেলে তারা বেশ ভালো আয়োজন করেছেন। সেখানে তারা খেলার আবহ তৈরি করেছেন এবং তোরণ নির্মাণ করেছেন, যা আমি ভীষণ উপভোগ করছি। বিকালে খেলোয়াড়দের জন্য ভিন্ন ধরনের খাবারের ব্যবস্থা করছেন তারা। আমাদের কাছে সবকিছু পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। রুমগুলোও সম্পূর্ণরূপে পরিচ্ছন্ন। সেখানে জিমও আছে। কাজেই, একে বেশ ভালোই বলতে হবে।’
‘প্রাইভেট হাউজিং’ বিকল্প ব্যবস্থা হতে পারতো, তবে আকাশচুম্বী খরচের কারণে সেই পথে যাননি মারে। যদিও দুই ধনী খেলোয়াড় সেরেনা উইলিয়ামস ও নোভাক জোকোভিচরা নিজেরাই নিজেদের থাকার ব্যবস্থা করেছেন।
এ নিয়ে নবমবার রেকর্ড ২৪তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের মিশনে নামতে যাওয়া সেরেনা ফুসফুসের সমস্যাসহ নানা স্বাস্থ্য জটিলতার কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই আমেরিকান সুপারস্টার বলেন, ‘ফুসফুসের সমস্যার কারণে হোটেলে উঠিনি, কারণ এটা আমার জন্য অনেক সমস্যা তৈরি করতে পারতো। বাসায় নিজের মতো করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। এখানে কোনো গৃহকর্মীও থাকবে না, ওই ধরনের কোনো স্টাফও থাকবে না। আসলে সবার সাথে থাকলে মজাই হতো, কিন্তু আমার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য জটিলতার কারণে আমি আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাড়তি বিশ্রাম নিতে পারব ও এটা ইউএস ওপেনে পারফর্ম করার ক্ষেত্রে আমাকে সাহায্য করবে।’
করোনাভাইরাসে পজিটিভ হয়েছিলেন জোকোভিচ, ফলে তাকে আদ্রিয়া ট্যুর সংক্ষিপ্ত করতে হয়েছিল। সার্বিয়ান সুপারস্টার থাকছেন নিউ ইয়র্ক টাইমসের চোখে ‘গাছের মাঝে বাসা’য়। সংবাদমাধ্যমকে জোকোভিচ বলেন, ‘গাছপালা ও নির্মলতা মিলিয়ে এমন পরিবেশ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। আমি কৃতজ্ঞও, কারণ হোটেলে দেখছি বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই থাকছেন। আমি ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছি না কিংবা এমন কিছুই না। আমি জানি ইউএস টেনিস অ্যাসোসিয়েশন তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য অনুসারে খেলোয়াড়দের থাকার ও সবকিছুর ব্যবস্থা করেছে যাতে তারা এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। কিন্তু এটা অধিকাংশ খেলোয়াড়ের জন্যই কঠিন, কারণ তারা জানালা খুলতে পারবেন না কিংবা থাকতে হবে হোটেলের ছোট্ট রুমে।’
খেলোয়াড়রা বলছেন, নতুন পরিবেশে তারা বেশ নিরাপদ বোধ করছেন। কিন্তু মহামারীর কারণে অনেক খেলোয়াড়ই এই টুর্নামেন্ট খেলছেন না। ‘না’ বলাদের মধ্যে সবচেয়ে হাইপ্রোফাইল রাফায়ের নাদাল, যিনি আরেকটি শিরোপা জিতে ধরে ফেলতে পারতেন রজার ফেদেরারকে (২০ গ্র্যান্ড স্লাম)। এছাড়া স্তান ভাভরিঙ্কা, সিমোনা হালেপ, অ্যাশলেই বার্টি, কিকি বের্টেনস, এলিনা সভিতোলিনা, বেলিন্ডা বেনচিচ, সভেতলানা কুজনেতসোভা, গায়েল মনফিলস, নিক কিরিওস ও নারী এককে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বিয়াঙ্কা আন্দ্রেস্কু লড়ছেন না এবারের আসরে। ফেদেরার ও ২০০৯ আসরের চ্যাম্পিয়ন হুয়ান মার্টিন দেল পোত্রো চোট থেকে সেরে না ওঠায় খেলছেন না ইউএস ওপেনে।
সূত্র: সিএনএন










