এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাঁচামরার ম্যাচে থ্রিলার লিখে জিতল বাংলাদেশ। গতকাল আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানকে শেষ বলের লড়াই শেষে ৮ রানে হারিয়েছে টাইগাররা। ‘বি’ গ্রুপের এ ম্যাচ জিতে সুপার ফোরে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখল লিটন দাসের দল।

১৫৫ রান তাড়া করতে নেমে জয়ের রেসে ছিল আফগানিস্তান। ৬ উইকেট পড়ে গেলেও রশিদ খান চোখ রাঙাচ্ছিলেন বাংলাদেশকে। আফগানদের প্রয়োজন ছিল ১২ বলে ২৭ রান। ৯ বলে ১৬ রানে অপরাজিত থাকা রশিদ ১৯তম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বাংলাদেশী সমর্থকদের বুকে কাঁপন ধরান। তখন প্রয়োজন ছিল ১১ বলে ২৩ রান। যদিও পরের বলেই রশিদকে সাজঘরে ফিরিয়ে টাইগারদের উৎসবে ভাসান মুস্তাফিজ। তার ফুল ও ওভারপিচ করা বলে স্লাইস করতে গিয়ে থার্ড ম্যানে তাসকিন আহমেদকে ক্যাচ তুলে দেন ডেঞ্জারম্যান রশিদ খান।

এর পরের বলেই উইকেটকিপার লিটনকে ক্যাচ তুলে দেন আল্লাহ গাজানফার (১৩২/৯)। অনবদ্য বোলিংয়ে পরের তিন বলে মাত্র এক রান দেন অভিজ্ঞ মুস্তাফিজ। ৫ রান দিয়ে এক উইকেট তুলে নিয়ে ১৯তম ওভারেই মূলত খেলা শেষ করে দেন বামহাতি পেস বোলার।

নূর আহমাদ ২০তম ওভারে তাসকিন আহমেদকে দুটি ছক্কা মেরে উত্তেজনা তৈরি করলেও শেষ রক্ষা হয়নি আফগানদের। ষষ্ঠ বলে তিনি লং-অনে ক্যাচ তুলে দেন নুরুল হাসানকে।

অবশ্য ১৮তম ওভারের প্রথম বলে করিম জানাতের রানআউটও কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ৩১ রান প্রয়োজন পড়ে আফগানিস্তানের। এক ছক্কা ও এক চারে আতঙ্ক ছড়াচ্ছিলেন রশিদ। যদিও অন্য প্রান্তে রানআউটের শিকার হয়ে বসেন করিম জানাত। নাসুমের বলে তিনি ড্রাইভ করলে এক্সট্রা কভার অঞ্চলে দুর্দান্ত ফিল্ডিং করে ক্ষিপ্রগতিতে বল উইকেটকিপার লিটনের কাছে পাঠিয়ে দেন নুরুল হাসান। বাংলাদেশ দলনায়ক মুহূর্তের মধ্যেই স্টাম্প ভেঙে দেন। এ আউট ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। এরপর নাটকীয়তা থাকলেও শেষ হাসিটা হাসেন লিটন-মুস্তাফিজরাই।

কাল টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেয়া বাংলাদেশ পেতে পারত ১৮০ কিংবা দুশর কাছাকাছি রান। প্রথম ১০ ওভারে ১ উইকেটে ৮৭ রান তুললেও পরের ১০ ওভারে সুবিধা করতে পারেনি টাইগাররা।। পরের ১০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলতে পেরেছে ৬৭ রান। তানজিদ হাসান তামিম ৩১ বলে ৫২ রান করেন ৪ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায়। সঙ্গে সাইফ হাসান করেন ২৮ বলে ৩০ রান। মিডল অর্ডারে তাওহীদ হৃদয় করেন ২০ বলে ২৬ রান। শেষ দিকে নুরুল হাসান ৬ বলে ১২, জাকের আলী ১৩ বলে ১২ রান করে দলের স্কোরটা দেড়শ ছাড়াতে ভূমিকা রাখেন। আফগানিস্তানের নূর আহমাদ (২/২৩) ও রশিদ খান (২/২৬) দুটি করে উইকেট নেন। তানজিদ ও সাইফ যখন পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৫৯ রান তুলে আতঙ্ক ছড়ান তখন রশিদ ও নূর এসেই একাধিক উইকেট নিয়ে আফগানদের ম্যাচে ফেরান। আফগানদের শক্ত বোলিংয়ের মুখে শেষ ১০ ওভারে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে হংকংকে হারালেও পরের ম্যাচে শ্রীলংকার কাছে হেরে যায় বাংলাদেশ। অন্যদিকে উদ্বোধনী ম্যাচে হংকংকে হারায় আফগানরা। তাই বাংলাদেশের কাছে হারলেও আগামীকাল শেষ ম্যাচে শ্রীলংকাকে হারিয়ে সুপার ফোরে ওঠার সুযোগ থাকবে রশিদ খানদের। বাংলাদেশের বিপদ কাটেনি। নিট রানরেটে আফগানিস্তানের (+ ২.১৫০, পয়েন্ট ২) চেয়ে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ (-০.২৭০, পয়েন্ট ৪)। শ্রীলংকা ৪ পয়েন্ট ও +১.৫৪৬ নিট রানরেট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থানে রয়েছে। অর্থাৎ আগামীকাল লংকানদের বিপক্ষে আফগানরা জিতলেই বিদায় নেবে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫৪/৫ (তানজিদ ৫২, সাইফ ৩০, তাওহীদ ২৬; নূর ২/২৩, রশিদ ২/২৬)। আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৪৬/১০ (গুরবাজ ৩৫, আজমতুল্লাহ ৩০, রশিদ ২০; মুস্তাফিজ ৩/২৮, নাসুম ২/১১, রিশাদ ২/১৮, তাসকিন ২/৩৪)। ফল: বাংলাদেশ ৮ রানে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: নাসুম আহমেদ (বাংলাদেশ)।