চোটের সঙ্গে লড়তে থাকা ব্রাজিল সুপারস্টার নেইমারকে বিশ্বকাপ খেলতে হলে আগে ফিটনেস প্রমাণ করতে হবে। এমন বার্তা দিয়েছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি বলেছেন, ‘আগামী বছরের বিশ্বকাপে নেইমার তার দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারেন, তবে তার আগে নেইমারকে ভালো শারীরিক অবস্থায় থাকার প্রমাণ দিতে হবে।’
ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা (৭৯ গোল) নেইমার গত বছরের অক্টোবর থেকে জাতীয় দলের হয়ে খেলেননি। ওই সময়ে তার বাম হাঁটুর এসিএল ও মেনিস্কাস ছিঁড়ে যায়। ৩৩ বছর বয়সী সাবেক এ বার্সেলোনা ও পিএসজি ফরওয়ার্ড সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলাল থেকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার শৈশবের ক্লাব সান্তোসে যোগ দেয়ার পর থেকেই ইনজুরি সমস্যায় ভুগছেন। এ কারণে আনচেলত্তির অধীনে হওয়া বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্রাজিলের দুটি ম্যাচের স্কোয়াডে ছিলেন না বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার নেইমার।
তবে এ তারকা অবশ্য আনচেলত্তির যুক্তির সঙ্গে একমত নন। সেপ্টেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দল থেকে বাদ পড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাকে বাদ দেয়া হয়েছে কৌশলগত কারণে, এর সঙ্গে আমার শারীরিক অবস্থার কোনো সম্পর্ক নেই। এটা কোচের নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং আমি তা সম্মান করি।’
তবে আনচেলত্তি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে নেইমারের দলে জায়গা হবে কিনা, সেটা তার প্রতিভা নয়, বরং তার ফিটনেসই নির্ধারণ করবে। ইএসপিএন ব্রাজিলের পেদ্রো ইভো আলমেদাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা নেইমার কীভাবে খেলে, তা দেখব না। তার প্রতিভা সম্পর্কে সবাই জানে। কিন্তু আধুনিক ফুটবলে প্রতিভাকে কাজে লাগাতে হলে একজন খেলোয়াড়কে অবশ্যই ভালো শারীরিক অবস্থায় থাকতে হবে। যদি সে তার সেরা শারীরিক অবস্থায় থাকে, তাহলে জাতীয় দলে জায়গা পেতে তার কোনো সমস্যা হবে না।’
আনচেলত্তি এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, ‘প্রত্যেকেই নেইমারকে সেরা শারীরিক অবস্থায় জাতীয় দলে দেখতে চায়। আমি তাকে বলেছি, নিজেকে সেরা উপায়ে প্রস্তুত করার জন্য তোমার হাতে সময় আছে, যাতে তুমি বিশ্বকাপে সেরাটা দিতে পারো।’ অতীতে নেইমার লেফট উইং এবং সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার–উভয় পজিশনেই খেলেছেন। তবে আনচেলত্তির মতে, উইং ফরওয়ার্ড হিসেবে খেলার জন্য নেইমারের এখন প্রয়োজনীয় শারীরিক সক্ষমতা নেই।
রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এ কোচ বলেন, ‘আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। সে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে হোটেলে এসেছিল এবং আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। সবকিছু পরিষ্কার, আমার ভাবনা একই আছে। আমি তাকে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার বা স্ট্রাইকার হিসেবে নেব। তাকে মাঝমাঠের কেন্দ্রবিন্দুতে খেলতে হবে, উইংয়ে নয়। কারণ আধুনিক ফুটবলে এমন ফরওয়ার্ড প্রয়োজন, যাদের শারীরিক সক্ষমতা ভালো। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সে অনায়াসে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতে পারে।’
জুনেই ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। তবে গত মঙ্গলবার বলিভিয়ার কাছে ১-০ গোলে হেরে লাতিন আমেরিকান বাছাইপর্বে পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে থেকে অভিযান শেষ করেছে সেলেসাওরা।
তার সময়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার বিবেচিত নেইমার জাতীয় দলের হয়ে তেমন কিছুই জিততে পারেননি। বিশ্বকাপে তো ফাইনালও খেলা হয়নি, জিততে পারেননি কোপাও। চোট-জর্জর ক্যারিয়ারে এবারই হতে পারত তার শেষ সুযোগ। যদিও আনচেলত্তির বিশ্বকাপের দলে তার জায়গা হওয়াই এখন ঘোর অনিশ্চিত।
এদিকে গত জুনে এক বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করা আনচেলত্তি আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের অপেক্ষায় আছেন। ব্রাজিলের সঙ্গে এক বছরের চুক্তি করলেও বর্তমান ভূমিকার মেয়াদ আরো দীর্ঘ করতে নিজ আগ্রহের কথাও প্রকাশ করেছেন আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলের জন্য বিশ্বকাপ প্রস্তুতি বিশেষ কিছু। আমি এক বছরের চুক্তি করেছি। যদি সিবিএফ (ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন) চায় আমি থাকব, আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি এখানে খুব খুশি, আমার পরিবারও খুশি। ২০৩০ সাল পর্যন্ত থাকাটা দারুণ হবে।’










