ত্রয়োদশ
ওয়ানডে বিশ্বকাপে আজ শনিবার নিজেদের শেষ ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে সম্মিলিত
প্রচেষ্টায় পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ৩০৭ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় বাংলাদেশ।
পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট এসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩০৬
রান তুলতে সমর্থ হয় টাইগাররা। যদিও এই রান দিয়ে আটকানো গেল না অজিদের। মিচেল
মার্শের ১৩২ বলে খেলা ১৭৭ রানের রাজসিক ইনিংসে ভর করে ৩২ বল বাকি থাকতে জয় তুলে
নেয় পাঁচবারের বিশ্বজয়ীরা।
এই
বড় হারের মধ্য দিয়ে হতাশার এক বিশ্বকাপ মিশন শেষ হলো বাংলাদেশ দলের। এবার রাউন্ড
রবিন লিগে ৯ ম্যাচ খেলে ৭টিতেই হেরেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। এমনটি
নেদারল্যান্ডসের মতো দলের কাছেও হেরেছেন সাকিবরা। এতে সেমিফাইনালের আশাভঙ্গ হওয়ার
পাশাপাশি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির টিকিট।
আজ
পুনেতে ১৭টি চার ও ৯ ছক্কায় বাংলাদেশের বোলারদের চরমভাবে হতাশ করেন অজি ওপেনার
মিচেল মার্শ। এছাড়া স্টিভ স্মিথ ৬৪ বলে ৬৩ ও ডেভিড ওয়ার্নার ৬১ বলে ৫৩ রান করে অস্ট্রেলিয়ার
সহজ জয় নিশ্চিত করেন।
প্রথম
দুই ম্যাচে হারের পর টানা ৭ জয় তুলে নিল অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের বিপক্ষে দাপুটে জয়ে
সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিশেষ বার্তা দিয়ে রাখল প্যাট কামিন্সের
দল। আগামী বৃহস্পতিবার কলকাতায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বে এই দুটি দল। তার আগের দিন
মুম্বাইতে প্রথম সেমিতে ভারতের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। ১৯ নভেম্বর আহমেদাবাদে
ফাইনাল।
এদিকে,
৮ উইকেটে হারলেও নিট রানরেটে উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। ৯ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে এ
মুহূর্তে টেবিলের আটে থাকা বাংলাদেশের নিট রানরেট -১.০৮৭। শ্রীলংকা -১.৪১৯ নিট
রানরেট নিয়ে নয় নম্বরে ও ডাচরা -১.৬৩৫ নিট রানরেট নিয়ে টেবিলের তলানিতে। রোববার
ভারতের বিপক্ষে ডাচরা কোনো অঘটন না ঘটালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার
টিকিট পাচ্ছে।
মিডল
অর্ডার ব্যাটার তাওহিদ হৃদয় ৭৯ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৭৪ রানের ইনিংস খেলে
বাংলাদেশকে তিনশ ছাড়ানো সংগ্রহ এনে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন। এছাড়া নাজমুল হোসেন
শান্ত ৪৫, লিটন দাস ৩৬, তানজিদ হাসান তামিম ৩৬, মাহমুদউল্লাহ ৩২, মেহেদী হাসান
মিরাজ ২৯ ও মুশফিকুর রহিম ২১ রান করেন। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম জাম্পা ও শন অ্যাবোট
দুটি করে উইকেট নেন।
তানজিদ
হাসান (৩৪ বলে ৩৬) ও লিটন (৪৫ বলে ৩৬) উদ্বোধনী জুটিতে ১১.২ ওভারে দলকে ৭৬ রান
তুলে দেন। দুজনই ৩৬ রান করে আউট হয়ে যান। এরপর অধিনায়ক শান্ত ও হৃদয় ৬৩ রানের
জুটিতে দলের সংগ্রহ ১৭০ পর্যন্ত নিয়ে বিচ্ছিন্ন হন। শান্ত ৫৭ বলে ৪৫ রান করে
রানআউটের শিকার হন।
চতুর্থ উইকেটে মাহমুদউল্লাহ ও তাওহিদ হৃদয় দারুণ
ব্যাটিংয়ে ৪৮ বলে ৪৪ রান যোগ করেন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মারমুখী ব্যাটিংয়ে ২৮ বলে
৩২ রান করে রানআউট হয়ে যান। এরপর মুশফিককে নিয়ে ৩৭ ও মিরাজকে নিয়ে ৩৫ রানের দুটি
জুটি গড়ে দলের সংগ্রহ ২৮৬ রানে নিয়ে আউট হয়ে যান তাওহিদ। পরবর্তীতে মিরাজ ও নাসুম
আহমেদের (৭) চেষ্টায় দল তিনশ পেরোয়। যদিও তিনশোর্ধ্ব সংগ্রহ নিয়েও বড় হারে মাথা
নিচু করে মাঠ ছাড়তে হলো শান্ত-মিরাজদের।










