সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে গতকাল এশিয়া কাপ ম্যাচে শ্রীলংকার কাছে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ। ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর ১৩৯ রানের পুঁজি গড়লেও লংকানরা ৬ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় ৩২ বল বাকি থাকতেই। একপেশে ম্যাচে হারের পর বাংলাদেশ দলনায়ক লিটন দাস বলেছেন, তারা পাওয়ার প্লেতেই হেরে গেছেন।

প্রথম ২ ওভারশেষে বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে শূন্য রান! ৬ ওভারশেষে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩০/৩। এ ঘাটতি আর কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে লিটন বলেন, ‘আমি তো মনে করি, আমরা পাওয়ার প্লেতে ম্যাচটা হেরে যাই। এটা ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো উইকেট। ভালো উইকেটে ১৪০ রান করলে আপনাকে তো বোলিং ও ফিল্ডিংটা ভালো করতে হবে, আমরা তা-ও করিনি।’

সুপার ফোরে যেতে চাইলে মঙ্গলবার আফগানিস্তানকে হারাতেই হবে। এ নিয়ে লিটন বলেন, ‘সেটা (আফগান ম্যাচ) আমাদের জন্য বাঁচা-মরার।’ তিনি বাংলাদেশের সমর্থকদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে পরের ম্যাচেও মাঠে আসার আহ্বান জানান।

গত জুলাই মাসে শ্রীলংকার মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে আসে বাংলাদেশ। এরপর ঘরের মাঠে পাকিস্তানকেও হারায় তারা। যদিও সেই ফর্ম এশিয়া কাপে টেনে নিতে পারল না লিটন দাসের দল। গতকাল আবুধাবিতে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর শামীম হোসেন ও জাকের আলীর লড়াইয়ে শ্রীলংকাকে ১৪০ রানের টার্গেট দিলেও জিততে পারেনি টাইগাররা। ৬ উইকেট ও ৩২ বল হাতে রেখে জয় তুলে নিয়েছে শ্রীলংকা। এটা তাদের প্রথম জয়।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ২ ওভারশেষে স্কোর ছিল ০/২! অর্থাৎ শূন্য রানে নেই ২ উইকেট। প্রথম ওভারে মেডেন উইকেট নেন নুয়ান তুষারা। তিনি প্রথম ওভারের শেষ বলে বোল্ড করেন তানজিদ হাসান তামিমকে। দুশমন্ত চামিরার করা পরের ওভারে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন পারভেজ হোসেন ইমন। এমন অবস্থায় ২.২ ওভারে সিঙ্গেল থেকে দলের প্রথম রান নেন লিটন!

দলকে চাপমুক্ত করার চেষ্টা করছিলেন লিটন। তার ব্যাটে পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৩০/৩। যদিও যথেষ্ট সাপোর্ট পাচ্ছিলেন না লিটন। তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান দ্রুতই বিদায় নেন। দলীয় ৫৪ রানে লিটনও পথ ধরেন সাজঘরের। ৫৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ গভীর বিপর্যয়ে পড়লে হাল ধরেন শামীম ও জাকের। দুজন ৬১ বলে ৮৬ রানের রেকর্ড জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ১৩৯ রানের পুঁজি এনে দেন। শামীম ৩৪ বলে ৪২ ও জাকের ৩৪ বলে ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন।

শামীম ও জাকের ষষ্ঠ উইকেটে রেকর্ড গড়েন। আগের রেকর্ড ছিল নুরুল হাসান সোহান ও আফিফ হোসেনের ৮১ রান। যদিও শামীম ও জাকেরের রেকর্ড গড়া ব্যাটিংয়ে জেতেনি বাংলাদেশ। পাথুম নিশাঙ্কা ৩৪ বলে ৫০ ও কামিল মিশারা ৩২ বলে ৪৬ রান করেন।