এক লাখেরও বেশি দর্শকের মুহুর্মুহু গর্জনে প্রকম্পিত হবে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল হয়েছিল এ মাঠে। সেবার ভারতের কোটি দর্শককে কাঁদিয়ে ফাইনাল জিতে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। মাথা নিচু করে মাঠ ছেড়েছিলেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিরা। তিন বছরের মধ্যে ঘরের মাঠে আরেকটা ফাইনাল। সে মাঠেই আজ কি শিরোপা নিয়ে উদযাপন করতে পারবেন সূর্যকুমার যাদব, ঈশান কিষাণরা? নাকি প্রথমবারের মতো সীমিত ওভারের বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়বে কিউইরা।

এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আজ রাতে। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনাল।

সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে উঠে আসে নিউজিল্যান্ড। আরেক সেমিফাইনালে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই হয় ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যে। ২৫৪ রানের বিশাল টার্গেট দিয়েও শেষ ওভার পর্যন্ত উৎকণ্ঠায় ছিল সূর্যকুমারের দল। যদিও শেষ পর্যন্ত পারেনি হ্যারি ব্রুকের দল। আজ চলতি আসরের সেরা দুই দলের লড়াই।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রেকর্ড প্রেরণা দিচ্ছে কিউইদের। এখন পর্যন্ত ২০ ওভারের বৈশ্বিক আসরে তিনবারের মুখোমুখিতে প্রতিবারই জিতেছে তারা। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম আসরে কিউইরা জিতেছিল ১০ রানে। আগে ব্যাট করে তারা তুলেছিল ১৯০ রান। জবাবে ভারত ৯ উইকেটে ১৮০ রান তুলতে সমর্থ হয়। ২০১৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত আসরে কিউইরা পেয়েছিল ৪৭ রানের জয়। নাগপুরে নিউজিল্যান্ড আগে ব্যাট করে মাত্র ১২৬ রান তুলতে পেরেছিল। সেই রান তাড়া করতে গিয়ে ভারত ৭৯ রানে অলআউট! বর্তমান অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ১১ রানে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। আজও কি ভারতীয়দের যমদূত হতে পারবেন এ বামহাতি অর্থোডক্স স্পিনার?

এছাড়া ২০২১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত আসরে ভারতকে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারায় নিউজিল্যান্ড। দুবাইয়ে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১১০ রান তুলতে সমর্থ হয় ভারতীয়রা। জবাবে কিউইরা ১৪.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয়।

দ্বিপক্ষীয় সিরিজে সর্বশেষ চারটি সিরিজেই ছিল ভারতের কর্তৃত্ব। ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে গত জানুয়ারি পর্যন্ত চারটি সিরিজই জিতেছে তারা। ৩-০, ১-০, ২-১ ও ৪-১ ব্যবধানে সিরিজগুলো জিতেছে ‘মেন ইন ব্লু’রা। সর্বশেষ নিজেদের মাটিতে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম তিন ম্যাচ টানা জিতে নেয় ভারত। চতুর্থ ম্যাচটি কিউইরা জিতে নেয়ার পর শেষ ম্যাচটি জিতে নেয় স্বাগতিকরা। এ সিরিজে একের পর এক ম্যাচে হয় রানবন্যা। পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই আগে ব্যাট করা দল রান তোলে দুশর ওপরে।

টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের সর্বোচ্চ পাঁচটি দলীয় সংগ্রহের তিনটিই এসেছে গত জানুয়ারির সিরিজে। আর ছয়টির মধ্যে তিনটি। কেরালার তিরুভানান্তাপুরমে ৩১ জানুয়ারি আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২৭১ রানের বিশাল সৌধ গড়ে ভারত। ৪৩ বলে ১০৩ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেছিলেন ঈশান কিষাণ। ওই ম্যাচেই ৩৩ বলে ৮০ রান করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের ফিন অ্যালেন। সেই অ্যালেন আছেন আগুন ফর্মে। গত সপ্তাহে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে একাই হারিয়ে দিয়েছেন ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করে, যা বিশ্বকাপের দ্রুততম সেঞ্চুরি।

আজকের ফাইনালেও রানবন্যার আভাস মিলছে। দুই দলেরই তারকা ব্যাটাররা আছেন দারুণ ফর্মে। দুই দলের সর্বোচ্চ ছয়টি দলীয় সংগ্রহের মধ্যে পাঁচটিই হয়েছে ভারতের মাঠে। সর্বশেষ সিরিজে নাগপুরে ২৩৮ ও ২০২৩ সালে আহমেদাবাদে ২৩৪ রান তুলেছিল ভারত। ২০১৯ সালে ওয়েলিংটনে ২১৯ রানের সৌধ গড়ে ভারতকে হারিয়েছিল কিউইরা। গত ৩১ জানুয়ারি তিরুভানান্তাপুরমে ২৭১ রানের সৌধ গড়ার দুদিন আগে বিশাখাপত্তমে ২১৫ রান তুলেছিল ভারত।

ভারত-নিউজিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে মোট ১৩ বার দুশর বেশি রান উঠেছে। এর মধ্যে সাতটি ভারতের, ছয়টি নিউজিল্যান্ডের। সর্বশেষ দশটির মধ্যে দুই দলের সমান পাঁচটি করে দুশোর্ধ্ব দলীয় সংগ্রহ রয়েছে।

ভারত দুবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে। ২০০৭ সালে প্রথম ও ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা উৎসব করে দলটি। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড কখনই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতেনি। ২০২১ সালের আসরে ফাইনালে উঠলেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের। দ্বিতীয় ফাইনালে কি ভাগ্যের শিকে ছিঁড়বে ব্ল্যাক ক্যাপসদের?