শ্রীলংকার পাল্লেকেলে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বেলা সাড়ে ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
দুই বছর আগে গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামের স্পিনবান্ধব ট্র্যাকে চারজন পেসার নামিয়ে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের তখনকার অধিনায়ক জস বাটলার। চার পেসারের ১২ ওভার থেকে ভারতীয়রা তুলে নেয় ১২০ রান। এরপর ইংল্যান্ডের ব্যাটিং অর্ডার ছিন্নভিন্ন করেন ভারতের স্পিনার কুলদীপ যাদব ও অক্ষর প্যাটেল। বাটলার অবশ্য কখনই তার স্পিনারদের ওপর আস্থা রাখতে চাননি। তাই তো বিশ্বকাপের সাত মাস পর ভারত সফরে এসে ৪-১-এ সিরিজ হেরে যায় বাটলারের দল। সেটা ছিল অধিনায়ক হিসেবে বাটলারের শেষ সিরিজ। এরপর আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকেও দ্রুত বিদায় ঘটে ইংল্যান্ডের।
এরপর অভাবনীয় কিছু ঘটল। বাটলারের উত্তরসূরি হ্যারি ব্রুক আস্থা রাখলেন স্পিনে। গত জুনে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রতি ২০ ওভারে অন্তত ৮ ওভার স্পিনারদের দিয়ে করিয়েছেন তিনি। গত মাসে পাল্লেকেলেতে ২০ ওভারের মধ্যে স্পিনারদের দিয়ে করিয়েছেন ১৫.৩ ওভার।
গত জুনে চেস্টার লি স্ট্রিটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটে ব্রুকের। ওই ম্যাচে তিনি মাত্র দুজন প্রথম সারির পেসার নেন। এ নিয়ে ব্রুকের ব্যাখ্যা ছিল এ রকম, ‘আমার খুব বেশি দূরের কথা ভাবছি না, তবে পরের বিশ্বকাপ তো ভারত ও শ্রীলংকায়।’
সেই থেকে স্পিনের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করে আসছে ইংল্যান্ড। হ্যারি ব্রুকের অধীনে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি রেকর্ড অবিশ্বাস্য—১৩ ম্যাচের মধ্যে তারা জিতেছে ১১টি। যদিও চলতি আসরে এখনো নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি তারকারা। সহযোগী তিনটি দেশের সঙ্গে কষ্টে জিতলেও হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে। তারকাখচিত ব্যাটিং লাইনআপ মোটেও জ্বলে ওঠেনি। চলতি সপ্তাহটি তাদের জন্য অগ্নিপরীক্ষার। আজ শুরুতেই তাদের সামনে স্বাগতিক শ্রীলংকা।
চলতি আসরে লংকানরা শুরু থেকে দুর্দান্ত খেলে এলেও গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হোঁচট খায়। উজ্জীবিত জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে যায় দাসুন শানাকার দল। এ হারে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি তারা। আজ কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে সিংহলিজরা, নাকি তারকাখচিত ইংল্যান্ডের সামনে উড়ে যাবে?
২০১০ ও ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করে ইংল্যান্ড। শ্রীলংকা এ ফরম্যাটে শিরোপা জিতেছে ২০১৪ সালে। পাথুম নিশাঙ্কা, কুশল মেন্ডিসরা এবার দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে খেলছেন। আর হ্যারি ব্রুকের দল তৃতীয় মুকুটের আশায় উপমহাদেশ মিশনে নেমেছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ছয়বারের দেখায় পাঁচবারই জিতেছে ইংল্যান্ড। ২০১০ আসরে ৭ উইকেটে, ২০১৪ আসরে ৬ উইকেটে, ২০১৬ আসরে ১০ রানে, ২০২১ আসরে ২৬ রানে ও ২০২২ আসরে ৪ উইকেটে জয় পায় ইংলিশরা। ২০১২ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত আসরে শুধু একবার ইংল্যান্ডকে হারাতে পেরেছে সিংহলিজরা। সেবার তারা জিতেছিল ১৯ রানের ব্যবধানে।
বিশ্বকাপ ও দ্বিপক্ষীয় সিরিজ মিলিয়ে এ ফরম্যাটে ১৭ বারের মুখোমুখিতে ১৩টি জয় নিয়ে এগিয়ে ইংল্যান্ড, শ্রীলংকা পেয়েছে ৪টি জয়। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই শ্রীলংকার মাঠে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০-তে জিতে নিয়েছে হ্যারি ব্রুকের দল। তিনটি ম্যাচই হয়েছিল পাল্লেকেলেতে। আজ সেই মাঠেই বিশ্বকাপ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও শ্রীলংকা।
গত সোমবার পাল্লেকেলেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেয় শ্রীলংকা। সেঞ্চুরি করে শ্রীলংকার জয়ের নায়ক পাথুম নিশাঙ্কা। সেই একই মাঠ হলেও এবারের প্রতিপক্ষ ভিন্ন আর বিপজ্জনক। সম্প্রতি সিরিজে ভালো করা ফিল সল্ট, টম ব্যান্টন, ব্রুক আর স্যাম কারানকে থামানোর চ্যালেঞ্জ স্বাগতিক দলের সামনে।
ইংলিশ-লংকা টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন জস বাটলার। তিনি এখন পর্যন্ত ১২ ম্যাচে ৪৬৬ রান করেছেন ১৪৩.৮২ স্ট্রাইক রেটে। একটি সেঞ্চুরিও করেছেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক। শীর্ষ পাঁচে দুজন আছেন শ্রীলংকার, যাদের কেউই আর এখন খেলেন না। মাহেলা জয়াবর্ধনে ২১৩ ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ১৯৪ রান করেছেন। উইকেট শিকারে শীর্ষে ক্রিস জর্ডান। তিনি নিয়েছেন ১৭ উইকেট। ১৫ উইকেট নিয়ে আদিল রশিদ দুইয়ে।










