করোনাভাইরাস মহামারীতে বিলম্বিত এবারের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে আগামীকাল রোববার জার্মান হেভিওয়েট বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হবে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নব্য পরাশক্তি প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। পর্তুগালের লিসবন শহরে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়। এটা বায়ার্নের ষষ্ঠ আর পিএসজির প্রথম শিরোপার মিশন। 

পাঁচবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ জার্মান যন্ত্রের মতোই যেন ছুটছে। ফাইনালের পথে বার্সেলোনার মতো তারকাখচিত দলকে ৮-২ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে এসেছে তারা। অনবদ্য পারফরম্যান্সে শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে নিজেদের তুলে এনেছে ফাইনালের মঞ্চে। যদিও তাদের প্রতিপক্ষ পিএসজির মধ্যে রয়েছে অন্যরকম এক স্পিরিট। অবিশ্বাস্য সব মেধাবী খেলোয়াড় নিয়ে গড়া দলটি কাল চমকে দিতে পারে জার্মান দলটিকে।

এবার বায়ার্নের কৌশল দারুণ সফল হচ্ছে। রবার্ট লেভানডভস্কি, টমাস মুলাররা রয়েছেন ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে। ২৯ ম্যাচে অপরাজিত হ্যানসি ফ্লিকের দল এবং এরই মধ্যেই ঘরোয়া ‘ডাবল’ জিতে এখন ট্রেবলের অপেক্ষায় তারা। যদিও নেইমার, কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো দুই বিপজ্জনক স্ট্রাইকার নিয়ে গড়া পিএসজির সামনে সেই তেজোদ্দীপ্ত বায়ার্নকে কাল দেখা নাও যেতে পারে! বিশেষ করে বায়ার্ন যেভাবে প্রতিপক্ষের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করে খেলেছে এবং তাদের ফুল-ব্যাকরাও উঠে গেছে বারবার, তাতে বিপদও আসতে পারে। বিশেষ করে, নেইমার ও এমবাপ্পের মতো গতিময় ও সুচতুর ফরোয়ার্ডরা এমন সুযোগ কাজে লাগাতে খুবই সমর্থ।

পিএসজিকে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান মুকুট এনে দেয়ার বড় দায় আছে নেইমারের কাঁধে। ২০১৭ সালে ২২২ মিলিয়ন ইউরোর বিশ্বরেকর্ড ফি দিয়ে বার্সেলোনার কাছ থেকে তাকে কিনে নেয় পিএসজি। এ দলবদলকে অনেকেই বিলাসিতা ও ভুল হিসেবে দেখেছেন। তবে কাল যদি এস্তাদিও দ্য লুজ স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা উঁচিতে ধরতে পারেন নেইমার, তবে পিএসজির সেই সিদ্ধান্তটি কার্যকর ও যৌক্তিক প্রমাণিত হবে। 

নেইমারের নিজের জন্য যেমন, তেমনি পিএসজির জন্যও দারুণ এক গল্প লেখার সুযোগ। এ পথে কি বাধা হতে পারবে বায়ার্ন?

সূত্র: বিবিসি