দলে এসেছিলেন ‘অতিরিক্ত’ কোটায়। অথচ সেই রাচিন বিশ্বকাপে গড়লেন ইতিহাস। ওপেন করার কথা না থাকলেও তিনি ব্যাট হাতে ওপেন করে বাজিমাত করতে থাকেন। এক ওয়ানডে বিশ্বকাপ আসরে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করা কেন উইলিয়ামসনের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেন। দুজনেরই রান এক আসরে ৫৭৮। ১০ ম্যাচে তিন সেঞ্চুরি ও দুই ফিফটিতে এ রান করেন তিনি।
তিন বছর পর সেই ভারতে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে করেছেন ৮ ইনিংসে মাত্র ১২৮ রান। তবে ভিন্ন রূপে সফল তিনি। বামহাতি এ স্পিনার ফাইনালের আগ পর্যন্ত নিয়েছেন ১১ উইকেট এবং এর মধ্য দিয়ে ছুঁয়ে ফেলেছেন কিউই গ্রেট ড্যানিয়েল ভেট্টোরিকে। একটি নির্দিষ্ট টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসরে কিউই স্পিনারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১১ উইকেট নিয়েছেন এ দুজনই। সব মিলিয়ে কিউই বোলারদের মধ্যে এক আসরে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেয়ার কীর্তিটা ট্রেন্ট বোল্টের। সেই রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলতে আজ দুই উইকেট নিতে হবে রাচিনকে।
আজ ফাইনালে ভারতের বামহাতি আগ্রাসী ব্যাটারদের বিপক্ষে অগ্নিপরীক্ষার মুখে পড়তে পারেন রাচিন। যদিও চলতি আসরে ডানহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে তিনি সফল। ছয় ইনিংসে ৬.৩২ ইকোনমি রেটে নিয়েছেন আট উইকেট। আর বামহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে ৮.৪৪ ইকোনমি রেটে নিয়েছেন তিন উইকেট।
রাচিনের বোলিংয়ে কোনো রহস্য লুকিয়ে নেই। অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের মতোই তিনি একজন ক্ল্যাসিক্যাল ফিঙ্গারস্পিনার। গতি আর লেংথের ওপর বেশি জোর দেন তিনি। কলম্বোর স্পিনবান্ধব উইকেটের সুবিধা বেশ কাজে লাগিয়েছেন রাচিন। ছোট বাউন্ডারি হলেও খুব বেশি মার খাননি। ভারতের ফ্ল্যাট উইকেটে অবশ্য লেংথ ঠিক রাখতে তাকে কুইকার মারতে হচ্ছে।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আর দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এইডেন মার্করাম ও ডেভিড মিলারকে আউট করেন রাচিন। সেখানেই মূলত প্রোটিয়া ব্যাটিংয়ের ভিত কেঁপে যায়। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা ১৬৯ রান তুললেও পরে ফিন অ্যালেন ঝড়ে কিউইরা পায় বিশাল ও অভাবনীয় এক জয়।
নিউজিল্যান্ডকে ফাইনালে তোলার পর রাচিন বলছিলেন, ‘আমার কাজ হলো ব্যাটারদের জীবন যতটা সম্ভব কঠিন করে তোলা। আমি গতি পরিবর্তন করে, সিম অ্যাঙ্গেল পরিবর্তন করে কিংবা কখনো অ্যাঙ্গেল পরিবর্তন করে থাকি।’
একের ভেতর ‘অনেক’ গুণসম্পন্ন এক ক্রিকেটার ২৬ বছর বয়সী রাচিন। নিউজিল্যান্ড দলের এক ‘রত্ন’। কেন উইলিয়ামসনের পর দলের সবচেয়ে বড় তারকা হয়ে উঠছেন ক্রমেই।
তবে উইলিয়ামসন যা পারেননি, সেই অর্জনের সুযোগ রাচিনের সামনে: বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ। এ নিয়ে রাচিন বলেন, ‘আমি মনে করি, একটি শিশু হিসেবে আপনি এমন মুহূর্তের স্বপ্ন দেখবেন। আমি মনে করি, মাঠে (আহমেদাবাদ) এক লাখেরও বেশি দর্শক থাকবে এবং আপনি জীবনের এমন মুহূর্তের সাক্ষী হতে চাইবেন। আপনি বিশ্বকাপ দেখে বড় হয়েছেন, এখন ভারতের মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলছেন...এটা স্বপ্নপূরণ।’










