কিন্তু গত সপ্তাহে যখন তার দল লন্ডনে চেলসির মুখোমুখি হচ্ছিল, তখন তিনি দোহায় আটকা পড়েছিলেন। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাতারের আকাশপথ বন্ধ। খেলাইফির এ অনুপস্থিতি কেবল একজন ক্লাব মালিকের ম্যাচ মিস করা নয়, বরং এটি বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর উচ্চাভিলাষী ‘স্পোর্টস প্রজেক্ট’-এর নাজুক অবস্থার এক প্রতীকী চিত্র।

বিগত কয়েক বছর ধরে কাতার, সৌদি আরব ও বাহরাইন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢেলেছে নিজেদের বিশ্বের ক্রীড়া কেন্দ্র বা স্পোর্টস হাব হিসেবে গড়ে তুলতে। শুধু ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনেই কাতার খরচ করেছিল ২২০ বিলিয়ন বা ২২ হাজার কোটি ডলার। অন্যদিকে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এ লক্ষ্য ছিল দেশের জিডিপির ৩ শতাংশ আসবে ক্রীড়া খাত থেকে। কিন্তু ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের এ সাম্প্রতিক সংঘাত সে মহাপরিকল্পনার মূলে বড় আঘাত হেনেছে।

যুদ্ধের প্রভাবে এ অঞ্চলে একের পর এক ক্রীড়া আয়োজন বাতিলের হিড়িক পড়েছে। ফর্মুলা ওয়ান বাহরাইন ও সৌদি আরবে গ্রাঁ প্রি প্রতিযোগিতা বাতিল করেছে। দোহায় নির্ধারিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার প্রীতি ম্যাচটিও স্থগিত হয়েছে।

দোহার যোগাযোগবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নর্থবোর্ন অ্যাডভাইজরির তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ অঞ্চলে বিভিন্ন খাতের ১০০টিরও বেশি বড় অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে। এমনকি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বা করিম বেনজেমার মতো বড় ফুটবল তারকারা বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিরতিতে নিজ দেশে ফিরবেন কিনা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।

ফ্রান্সের এমলিয়ন বিজনেস স্কুলের ইউরেশিয়ান স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রির অধ্যাপক সাইমন চ্যাডউইকের মতে, চলমান যুদ্ধটি একদম ‘ভুল সময়ে’ এসেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্রীড়া মডেল মূলত বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজনের ওপর নির্ভরশীল। এসব দেশ বিদেশী খেলোয়াড় কিনছে এবং পরামর্শক নিয়োগ দিচ্ছে, কিন্তু সরঞ্জাম তৈরির মতো নিজস্ব কোনো শক্তিশালী ক্রীড়া উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলেনি। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধ হওয়া বা বিদেশী কর্মীরা চলে যেতে চাইলে পুরো ব্যবস্থাটি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।

জ্বালানি তেলের বাজার ও রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) এরই মধ্যে স্টেডিয়াম নির্মাণ ও অন্যান্য খেলার বাজেট কাটছাঁট শুরু করেছে। ড্রোন হামলার আতঙ্ক ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট উপসাগরীয় দেশগুলোর সেই স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে