ভারতের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। এটা যেন বার্বাডোজের পুনরাবৃত্তির ম্যাচ। জ্যামাইকার বার্বাডোজে ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এ দুটি দল। সেই মহারণে ৭ রানের জয় তুলে নিয়েছিল ভারত।

২০ দল থেকে লড়াইটা নেমে এসেছে ৮ দলে। সুপার এইটে দলগুলো দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে লড়বে। ‘গ্রুপ-টু’তে খেলছে চার রানার্সআপ ইংল্যান্ড, শ্রীলংকা, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান। এছাড়া ‘গ্রুপ-ওয়ান’-এ আছে চার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে। গ্রুপ পর্বের চার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন সুপার এইটে একই গ্রুপে পড়েছে, অন্য গ্রুপটি করা হয়েছে চার রানার্সআপ দল নিয়ে! তাই সুপার এইটের ফরম্যাট নিয়ে রয়েছে তুমুল সমালোচনা।

২০২৪ সালে জ্যামাইকার বার্বাডোজে নবম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রোটিয়াদের ৭ রানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয় করে ভারত। সেবার ফাইনালের আম্পায়ারিং নিয়ে অভিযোগ তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা দল। যদিও সিদ্ধান্ত আর পাল্টানো যায়নি। তাদের ভাগ্যের শিকেও ছেঁড়েনি। বৈশ্বিক আসর থেকে আরেকবার খালি হাতে ফিরতে হয় দলটিকে।

সেই থেকে দুই দলেও এসেছে অনেক পরিবর্তন। বিশেষ করে ভারতীয় দলের পরিবর্তনটা বেশ চোখে পড়ার মতো। সাবেক দুই অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা কাছাকাছি সময়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অবসর নিয়েছেন। নেই হার্ড হিটিং ব্যাটার ও উইকেটকিপার ঋষভ পন্ত। এর পরও সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারতের বর্তমান দলটি বেশ প্রতিশ্রুতিশীল। ইশান কিশান, অভিষেক শর্মা, তিলক ভার্মা, সূর্যকুমাররা ভারতের ব্যাটিং ইউনিটকে করে তুলেছেন অপ্রতিরোধ্য। তারা প্রত্যেকেই বিস্ফোরক ব্যাটার। এছাড়া জশপ্রীত বুমরাহ, কুলদীপ যাদবদের নিয়ে গড়া স্বাগতিকদের বোলিং ইউনিটও ভয়ংকর।

দুই বছর পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আবারো মুখোমুখি বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই দল। এবারের লড়াইটা ফাইনালে নয়, সুপার এইট পর্বে। তবু এ লড়াইয়ে থাকবে ফাইনালের ঝাঁজ। দুই দলই আছে দুর্দান্ত ফর্মে। এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে অপরাজিত। ভারত ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আর দক্ষিণ আফ্রিকা ‘ডি’ গ্রুপসেরা হয়ে সুপার এইটে উঠেছে। আজ দুই দলের একটি পাবে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ।

দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের এক চিরদুর্ভাগা দল। প্রতিবার ফেভারিট হয়েও শেষ পর্যন্ত অঘটনে বিদায় নিতে হয়। গতবার কেনসিংটন ওভালে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই শেষে শিরোপার হাসি হাসে ভারতীয়রা, তখন মাঠের এক প্রান্তে ছিল প্রোটিয়াদের বিষাদময় কতগুলো চেহারা। এত কাছে গিয়েও শিরোপার নাগাল পাওয়া হয়নি। আরেকবার বৈশ্বিক আসরে বড় আশা নিয়ে এসেছেন এইডেন মার্করামরা। সেই পথে আজ তারা হারাতে চাইবেন হট ফেভারিট ভারতকে। জিতলে সেমিফাইনালের পথ অনেকটা মসৃণ হয়ে যাবে তাদের।

বার্বাডোজ ফাইনালের পর অবশ্য টি-টোয়েন্টিতে নয়বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২৪ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে ও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারতের মাঠে দুটি সিরিজে মুখোমুখি হয় দল দুটি এবং উভয় সিরিজই ৩-১ ব্যবধানে জিতে নেয় ভারত।

টি-টোয়েন্টিতে হেড টু হেড লড়াইও আজ এগিয়ে রাখবে ভারতকে। এখন পর্যন্ত ৩৫ ম্যাচের লড়াইয়ে ২১ জয় নিয়ে ভারত অনেক এগিয়ে, আর দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ১৩টি। দক্ষিণ আফ্রিকাকে একশ রানের বেশি ব্যবধানে তিনবার হারানোর কৃতিত্ব দেখিয়েছে ভারত। মাত্র ১ রানেও দুই দলের লড়াই ফয়সালা হওয়ার নজির আছে। ২০১২ সালের বিশ্বকাপে কলম্বোয় ভারতের ১৫২ রানের জবাবে প্রোটিয়ারা ১৫১ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সাতবার দেখা হয়েছে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার। এখানেও ৫ জয় নিয়ে ভারত এগিয়ে, আর দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ২টি। ২০০৭ আসরে ৩৭ রানে, ২০১০ আসরে ১৪ রানে, ২০১২ আসরে ১ রানে, ২০১৪ আসরে ৬ উইকেটে ও ২০২৪ আসরে ৭ রানের জয় পায় ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকা ২০০৯ আসরে ১২ রানে ও ২০২২ আসরে ৫ উইকেটের জয় পায়।